নভেম্বরের নির্বাচনকে উপলক্ষ্য করে অক্টোবরেই অন্তত একটি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন মার্কিন মুলুকে ছাড়পত্র পেতে চলেছে। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই বাজারে কোভিড ভ্যাকসিন আনতে চান তিনি। যদিও ডেমোক্র্যাট নেতা থেকে শুরু করে অনেক চিকিত্সা বিশেষজ্ঞ বলছেন, রাজনীতির কারণে তাড়াহুড়ো করে এ ভ্যাকসিন বাজারে ছাড়া ঠিক হবে না।
হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, অক্টোবরেই ভ্যাকসিন প্রস্তুত হয়ে যাবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভ্যাকসিন নিয়ে আসব যুক্তরাষ্ট্রে। সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক জানায়, ট্রাম্প নির্বাচনের আগেই ভ্যাকসিন নিয়ে আসার সমালোচনাকারীদের ব্যাপারে বলেন, ওরা বলছে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন এলে সেটা নাকি ঝুঁকির কাজ হবে। টিকার সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কিন্তু আমি বলব যুক্তরাষ্ট্রের টিকা হবে মানুষের শরীরে নিরাপদ ও কার্যকরী। ট্রাম্পের বক্তব্য হচ্ছে, আমি যেটা বলি সেটাই করি। যদি বলি আগামীকালই ভ্যাকসিন আনব, তো সেটাই করব। আমার সিদ্ধান্ত যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব ফেলে তো ফেলুক। দেশবাসীর সুরক্ষা সবচেয়ে আগে। হোয়াইট হাউজের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা মহামারিবিদ অ্যান্থনি ফাউসি আগেই বলেছিলেন নভেম্বরের আগেই টিকা আসতে পারে। প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যানার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজ। মার্কিন এই সরকারি সংস্থার অধীনেই ভ্যাকসিন তৈরি করছে দেশটির বৃহত্তর ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি মোডার্না বায়োটেকনোলজি। মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) ডিরেক্টর রবার্ট রেডফিল্ড বলেছেন, শুরুতে নভেম্বরে ভ্যাকসিন আনার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণ যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে অক্টোবরেই টিকার ডোজ নিয়ে আসার কথা হচ্ছে। তিনি জানান, ডালাসের সংস্থা ম্যাককেসন কর্পের সঙ্গে চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে এই সংস্থাই রাজ্যগুলোতে কোভিড ভ্যাকসিন বিতরণ করবে। কাদের আগে টিকা দেওয়া হবে, কীভাবে টিকার বিতরণ হবে সে বিষয়ে আবেদনপত্র জমা দেবে রাজ্যগুলো। সিডিসি জানিয়েছে, ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ দেওয়া হবে। প্রথমটি দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। এই দ্বিতীয় ডোজ ইমিউন বুস্টারের কাজ করবে অর্থাত্ অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
