সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া পাঁচ ব্যক্তির সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে সৌদি আরবের একটি আদালত। ২০১৮ সালের ঐ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডসহ মোট আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছিল। নতুন রায়ের সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ এবং তার বাগদত্তা। খবর বিবিসির
সাজা হ্রাসের নিন্দা
গত মে মাসে জামাল খাশোগির ছেলে সালাহ মোহাম্মদ ঘোষণা করেন যে, তার পিতাকে যারা হত্যা করেছেন, তাদের তিনি তিনি এবং তার ভাই ক্ষমা করে দিয়েছেন। তারা মেনে নিয়েছেন যে, ঐ হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। সোমবার সৌদি আরবের সরকারি কৌঁসুলিরা জানান, রিয়াদের আদালত মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পাঁচ ব্যক্তিকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। বাকি তিনজনকে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে এই সাজাই চূড়ান্ত। পরিবারের সদস্যরা ক্ষমা করে দেওয়ায় সাজা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে কৌঁসুলিরা জানান। এর মাধ্যমে সৌদি আরবে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রমও শেষ হলো। তবে জামাল খাশোগির বান্ধবী হেতিস চেঙ্গিস একটি বিবৃতিতে বলেছেন, সৌদি আরবে যে রায় দেওয়া হলো, সেটার মাধ্যমে আবারো বিচার নিয়ে তামাশা করা হলো।
জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোটিয়ার অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, সাজা হলেও যা ঘটেছে, তা মুছে যাবে না। বিচারের নামে প্রহসনের আরেকটি ঘটনার আয়োজন করেছে সৌদি কৌঁসুলিরা। কিন্তু এই সাজার কোনো আইনি বা নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। এমন একটি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে এটা হয়েছে, যা ন্যায্য বা স্বচ্ছ নয়। তিনি একটি টুইটে আরো বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আবারো আহবান জানিয়েছেন ক্যালামার্ড।
