আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চুরির জন্য দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার বিষয়টি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি জানিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি এ ঘটনার পেছনের গডফাদারদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া মাদক কারবারিদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরও শনাক্ত করতে গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিক্ষিপ্তভাবে কাজ করে, সমন্বয় করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। সবগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেজন্য আমরা একটা কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছি, উনি কমিটি গঠন করবেন।’
ইউএনওর বাসায় চুরির ঘটনা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি
মন্ত্রী বলেন, ‘ইউএনওর বাসায় চুরির ঘটনা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। কী কারণে তার ওপর হামলা হয়েছে? আরো ইনভেস্টিগেশনের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছি। পেছনে আর কী রহস্য রয়েছে, এ ঘটনার গডফাদার কোথায় বা কারা সেগুলো দেখার জন্য।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে ইউএনওদের বাসভবনে পুলিশ মোতায়েন করেছি, যাতে তাদের রাত্রীকালীন নিরাপত্তা থাকে। আজকে আমরা সংশোধন করে বলেছি পুরো উপজেলা কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা দিতে। কারণ সেখানে আরো অফিসার থাকেন।’
মেজর সিনহা হত্যা প্রসঙ্গ
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, সিনহা হত্যা যৌথভাবে তদন্ত হচ্ছে, তদন্ত রিপোর্ট অনুসারে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বিএনপি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি বলেন, তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবেচনা করতে পারে।
২৪ ওয়াচ টাওয়ারে ২৪ ঘণ্টা মনিটর
আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, রোহিঙ্গারা বিভিন্নভাবে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে মারামারি, কাটাকাটি বা মাদকদ্রব্য ও ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। সেখানে কিছু আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকতা আছে এনজিওগুলোর নামে। সেগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৪টি টাওয়ার নির্মাণ করে ২৪ ঘণ্টা মনিটরের ব্যবস্থা করা হবে। এনজিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থা কিছু কিছু নাম বলেছে। সুনির্দিষ্টভাবে তারা কী খারাপ কাজ বা অন্যায় কাজ করছে, তার রিপোর্ট আমরা পেশ করতে বলেছি।’
রাষ্ট্রবিরোধী ‘চ্যানেলে’ বিজ্ঞাপনদাতাদের চিহ্নিতের নির্দেশ
রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত থাকা ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে কারা বিজ্ঞাপন দিচ্ছে এবং কীভাবে সেই বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। কমিটির সভাপতি বলেন, ‘সরকার প্রেসের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। কিন্তু কোনো লাইসেন্স নেই, পারমিশন নেই—এদের ব্যাপারে আমরা বিটিআরসিকে অনুরোধ করেছি, যারা এগুলো চালাবে তাদের জবাবদিহি থাকতে হবে।’ সাইবার অপরাধ এখন খুব ‘অ্যালার্মিং’ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাইবার অপরাধ দমনের জন্য গোয়েন্দা তত্পরতা বাড়াতে হবে। তবে কোনো কিছু বন্ধ করে দেওয়া হবে না, আমরা বন্ধ করার পক্ষে না।’
অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হবে
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, বাংলাদেশে সাত শতাধিক বিদেশি নাগরিক আছেন, যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ ও ভিসা নেই। তাদের পূর্ণ তালিকা পুলিশ বিভাগের কাছে আছে। তাদের সবাইকে ক্যাম্পে রেখে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
