ঘরের ভেতর বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে সাফল্য পেয়েছে চকরিয়া উপজেলার ইলিশিয়া এলাকার বাসিন্দা গিয়াসউদ্দিন। উদ্যোগটি স্থানীয় বেকার যুবকদের কাছে এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
গিয়াসউদ্দিন বলেন, ২০১২ সালে বাড়ির পাশে ইলিশিয়া এলাকায় ব্যক্তিগত সাত-আটটি পুকুর ইজারা নিয়ে শুরু করি সাদাজাতের মাছ চাষ। তিনি বলেন, মাছ চাষ আমার জীবনের গতি বদলে দিয়েছে। আজ আমি আর্থিকভাবে বেশ স্বাবলম্বী। আমার পরিবারও তাতে ভীষণ খুশি। গিয়াসউদ্দিন বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে এক দিন ইউটিউবে বায়োফ্লক পদ্ধতির মাছ সম্পর্কে জানতে পারি। বাস্তবে এই পদ্ধতির মাছ চাষ দেখতে আমি একাধিকবার কুমিল্লা গিয়েছি। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আমি ১৩ ফুট প্রস্থ ও ১৩ ফুট দৈর্ঘ্য আয়তনের একটি ঘরে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করি। এ চাষে প্রয়োজন অল্প পরিমাণের একটি জায়গা, সেখানে থাকবে একটি ট্যাগ (গোল আকারের খাঁচা) এবং পর্যাপ্ত বিদ্যুত্ ব্যবস্থা। বিদ্যুত্ চলে গেলে আইপিএস অবশ্যই থাকতে হবে। মূলত বিদ্যুতের পাম্পের সাহায্যে খাঁচার পানিতে বাতাস (অক্সিজেন) দিতে হয়। তাতে বুদ্বুদ আকার সৃষ্টি করলে মাছ খাদ্যের প্রতি আগ্রহী হয়। গিয়াসউদ্দিন বলেন, প্রথমে আমি তেলাপিয়া মাছের চাষ করেছিলাম। মাছের পোনা ও বিদ্যুত্ বিল বাবদ আমার খরচ পড়ে ১৪ হাজার টাকা। চার মাসে মাছ বিক্রি করে আয় করি ৩৪ হাজার টাকা। চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা মো. বেনজির আহমেদ বলেন, উপজেলায় গিয়াসউদ্দিন এই পদ্ধতিতে প্রথম মাছ চাষ শুরু করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি এলাকাবাসীর জন্য সুখবর। বিশেষ করে এই এলাকার বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গিয়াসউদ্দিনের উদ্যোগটি মডেল হতে পারে।
