জাতীয় দলের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গত মঙ্গলবার রাতে উয়েফা ন্যাশন্স কাপে সুইডেনের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে পর্তুগাল স্ট্রাইকারটি এই গ্রহের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে নজিরটি গড়লেন। রোনালদোর আগে ইরানের আলি দাইয়ি এই নজিরটি গড়েছিলেন। দেশের হয়ে আলির গোল আছে ১০৯টি। প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে শতকের ফলক পেরোনো জুভেন্তাস তারকা ১৬৫তম ম্যাচে এসে সেঞ্চুরি হাঁকালেন। তার গোল এখন ১০১টি।
এটা এমন এক নজির যা নেই তার বর্তমান সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি কিংবা দুই কিংবদন্তি পেলে কিংবা দিয়েগো ম্যারাডোনার। দেশের জার্সি গায়ে মেসির গোল আছে কেবল ৭০টি। অপরদিকে ব্রাজিল তারকা পেলে করেছেন ৭৭ গোল।
সব ঠিকঠাক থাকলে আগের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধেই হয়তো শতকের এই ফলকটিতে পৌঁছাতে পারতেন ৩৫ বছরের স্ট্রাইকারটি। কিন্তু পায়ে সংক্রমণের জন্য সেদিন খেলতে পারেননি পাঁচ বারের ব্যালন ডিঅর জয়ী। আর এদিন তিনি গোল দুটি করে পর্তুগালকেও জিতিয়েছেন ২-০ ব্যবধানে। বিরতির ঠিক আগে চোখ ধাঁধানো ফ্রিকিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যান পর্তুগিজটি। তার পরের গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে।
পর্তুগাল গত বছর চালু হওয়া এই প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত দুই খেলার উভয়টিতে জিতে রোনালদো বাহিনী ভালো অবস্থানে আছে।
জাতীয় দলের হয়ে ১৮ বছর বয়সে রোনালদোর অভিষেক হয় ২০০৩ সালে কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে। তবে দেশের হয়ে প্রথম গোলের দেখা পান ২০০৪ সালের ইউরোয় গ্রিসের বিরুদ্ধে। এরপর আর থামেননি রোনালদো। মাঝে পর্তুগালকে ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও ন্যাশনাল লিগ জেতান তিনি।
ধারণা করা যায় অবসরে চলে যাওয়া ইরান কিংবদন্তির রেকর্ডটি ভেঙে ফেলবেন সিআর সেভেন নামে খ্যাত বর্তমান বিশ্বের দুই সেরা স্ট্রাইকারের অন্যতম এই পর্তুগিজ। কেননা আলি দাইয়ির সঙ্গে তার গোলের ব্যবধান এখন কেবল আটটি। অপরদিকে ভারতের সুনিল ছেত্রি (৭২) ও আর্জেন্টাইন তারকা মেসি (৭০) তার ধারে কাছে থাকলেও এ মাইলফলক কিংবা রেকর্ডটি ভাঙা তাদের পক্ষে কেবল দুরতম কল্পনাতেই সম্ভব।
মজার ব্যাপার হলো পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর অর্ধেক গোল আসে তারকাটির বয়স ৩০ হবার পর। এই সময়ে তিনি ৪৭ খেলায় ৪৯ গোল করেন। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাওয়া গোলগুলোর মধ্যে ১৭টি আসে প্রীতি ম্যাচ থেকে। লিথুনিয়া ও সুইডেনের বিরুদ্ধে গোল আছে যথাক্রমে সাত ও ছয়টি। এছাড়া পাঁচ বার করে গোল দিয়েছেন অ্যান্ডোরা, আরমেনিয়া, লাটভিয়া ও লুক্সেমবার্গের বিরুদ্ধে।
সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়টির আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক আছে ছয়টি। এছাড়াও ফিফা বিশ্বকাপে সাত গোল করেছেন তিনি। অপরদিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও ৯ গোল আছে তার।
পুরুষদের ফুটবলে সব মিলিয়ে কেবল দুই জন গোলের শতকে পৌঁছালেও ১৭ জন নারী ফরোয়ার্ড এ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এদের মধ্যে সাত জন আমেরিকান। তবে গোলদক্ষতায় সর্বকালের হিসেবে এগিয়ে আছেন কানাডার ক্রিস্টিন সিনক্লেয়ার। তার গোলসংখ্যা ১৮৬, আমেরিকান তারকা অ্যাবি ওয়ামবাখের চাইতে দুটি বেশি।
