সরকারি ভিজিডি, ভিজিএফ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ সবধরনের ত্রাণের চাল কেনাবেচা নিষিদ্ধ। তারপরও বগুড়ার আদমদীঘিতে ত্রাণগৃহীতারা সরকারি এসব চাল নিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন। এতে বিক্রেতার কিছু হয় না। ফেঁসে যাচ্ছেন যিনি সরকারি চাল কিনছেন। এমন ব্যক্তি আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছেন। এরপরও থেমে নেই ত্রাণের চাল কেনাবেচা। ভ্রাম্যমাণ আদালত ভিজিডির চাল কেনার অপরাধে দুইজনকে জেল দেন এবং একজনের অর্থ দণ্ড করেন। দেখা যায়, উপজেলার ৬টি ইউপি এলাকায় যখনই ঐসব কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হয়, তখনই ত্রাণগ্রহীতারদের মধ্যে চাল বিক্রির হিড়িক পড়ে। এসময় ছোট বড় ব্যবসায়ীরাও তত্পর হয়ে ওঠেন। তাঁরা অধিক মুনাফার আশায় অল্প দামে এসব চাল কিনে গুদাম ভরেন। পরে সুবিধামতো এ চাল তারা অন্যত্র বেচে দেন। যাদের ঘরে খাবার থাকে না—দুস্থ, হতদরিদ্র এমন লোকজনকে সরকারি এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিটি ইউপিতে যাচাই-বাছাই করে দুস্থদের তালিকা করার কথা। তাহলে কেন এসব লোকজন ত্রাণ পেয়ে বাজারে বিক্রি করছেন? এতে কি প্রমাণ হয় না যে এরা খাদ্য সংকট নেই। এই উপজেলায় প্রায় ২০০০ ভিজিডির তালিকাভুক্ত কার্ডধারী রয়েছেন। প্রতি মাসে এক-একজন ৩০ কেজি করে চাল পান। এছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩৬০০ জন কার্ডধারী আছেন, যারা স্বল্প মূল্যে চাল পেয়ে থাকেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ কার্ডধারীই চাল বাজারে বিক্রি করে দেন। এ কারণে এখানে সরকারের বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। পরিশেষে, অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রকৃত দুস্থ ও হতদরিদ্র লোকজনের মধ্যে সরকারি খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করাসহ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সাকলাইন লেনিন
আদমদীঘি, বগুড়া
