মিথ্যা ঘোষণায় আসা একটি পণ্যচালান খালাস করা নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তানাজ এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত পণ্যে রাজস্ব ফাঁকির উদ্দেশ্যে মিথ্যা ঘোষণা দিয়েছে বলে নিশ্চিত হয় শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। পরবর্তীতে এনবিআরের সিনিয়র কর্মকর্তারাও ঐ পণ্য পরীক্ষা করে একই মতামত দেয়। কিন্তু কমলাপুর আইসিডি কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য ছাড়ে অনড় থাকে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরবর্তীতে এনবিআরের চাপে আমদানিকারকের ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে পণ্য খালাস করে। কিন্তু মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্যে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান থাকলেও তা আদায় করা হয়নি। অন্যদিকে ব্যাংক গ্যারান্টি কেন দিতে হলো, তা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। আমদানিকারকের দাবি, সমজাতীয় পণ্যে একই হারে শুল্কায়নে এর আগে আদালতের রায় তার পক্ষে রয়েছে। যদিও এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, আলোচ্য পণ্য এবং আগের পণ্য একই ছিল না। মূলত আইসিডির শুল্ক বিভাগের একশ্রেণির কর্মকর্তার অবহেলা কিংবা যোগসাজসে আমদানিকারক জরিমানা ছাড়াই পণ্যটি খালাস করিয়ে নিতে পেরেছেন। এর ফলে বিদ্যমান শুল্ক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি সরকার প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সূত্র জানায়, পণ্যটি সিল্ড একুমুলেটর পাওয়ার ব্যাংক কলোইডাল জেল ব্যাটারি ঘোষণা দেয় আমদানিকারক, যার শুল্ককর ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই মূল্যে পণ্য শুল্কায়ন করে খালাসও করে দেওয়া হয়। ছয় ট্রাকভর্তি পণ্যটি আইসিডি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ই গোপন সংবাদ থাকায় ঐ পণ্য আটক করে পরীক্ষা করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল। গত ১৮ আগস্ট ঐ পণ্য পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়, ৫৮ নয়, ঐ পণ্য চালানের শুল্ককর হবে ৮৯ শতাংশ। এর ফলে মোট শুল্ককরের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কিন্তু আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য ছাড় করা হলে রাজস্ব ফাঁকি দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মিথ্যা ঘোষণার কারণে এর সঙ্গে জরিমানাও আদায় হওয়ার কথা। ইস্যুটি নিয়ে এনবিআরের পাঠানো এক চিঠিতে এ ধরনের পণ্য পরীক্ষায় সতর্ক থাকতে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দেশের সব শুল্ক বিভাগকে। এতে বলা হয়, আলোচ্য পণ্য চালানের ক্ষেত্রে অসত্য ঘোষণা সংঘটিত হয়েছে। পণ্যটি কায়িক পরীক্ষা ও শুল্কায়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে আমদানিকারকের অসত্য ঘোষণার বিষয়টি উদ্ঘাটন করা যেত।
যোগাযোগ করা হলে কমলাপুর আইসিডি কাস্টমস হাউজের কমিশনার মোবারা খানম ইত্তেফাককে বলেন, এর আগে একই আমদানিকারকের, একই দেশ থেকে একই পণ্য তার ঘোষিত এইচ এস কোডে শুল্কায়ন হয়েছে। অতীতে একই ইস্যুতে সমস্যা হওয়ার পর উচ্চ আদালতের রায় তার পক্ষে ছিল। আমরা মূল্যায়নে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছি। তবুও এনবিআরের চাপে পড়ে ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়েছি এবং তা নগদায়ন করেছি। এখন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আমাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করেছে।
