নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ

জমে থাকা গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুতের স্পার্কিংয়ে বিস্ফোরণ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৪

পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে জমে থাকা গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুত্ স্পার্কিংয়ের ফলে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের গঠিত তদন্ত কমিটি। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা গ্যাস ও বিদ্যুতের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। এই তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিদ্যুত্ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্তকালে মসজিদে দুটি বিদ্যুত্ সংযোগ ছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে। বিদ্যুত্ লাইন পরিবর্তন করতে গিয়ে স্পার্কিংয়ের সৃষ্টি হয়। স্পার্কিং থেকে জমে থাকা গ্যাসের মাধ্যমে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়।’এদিকে গত তিন দিন ধরে তিতাসের তদন্ত কমিটি মসজিদের তিন দিকে খোঁড়াখুঁড়ি অব্যাহত রেখেছে। গতকাল পর্যন্ত মসজিদের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পাশের রাস্তায় খনন করে গ্যাস পাইপের লাইনে ছয়টি লিকেজ পায়। তবে মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরণের আগে মেঝের যে স্থানে গ্যাসের বুদবুদ দেখা গিয়েছিল, সেখানে গতকাল পর্যন্ত খনন করা হয়নি।

বায়তুস সালাত জামে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তিতাসের তদন্ত কমিটি নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর মিয়া জানান, ‘আমার কাছ থেকে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তিতাসের তদন্ত কমিটি আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি কে করেছেন—তা জানতে চায়। আমি বলেছি, মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হান্নান মিয়ার কাছে তিতাস কর্তৃপক্ষের মৌখিক কথায় ঘুষ চাওয়া হয়েছে।’ উল্লেখ্য, মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান গত মঙ্গলবার রাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান।

এদিকে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির কাছে গতকাল আরো ২৫ জন প্রত্যক্ষদর্শী তাদের বক্তব্য দিয়েছে। কমিটির কাছে এ নিয়ে মোট ৩৩ জন বক্তব্য দিলেন।

মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে ওলামা পরিষদ। গতকাল বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ঐ মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল আরো বলেন, মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ বিধি অনুসরণ না করা এক বিষয় আর মসজিদ অবৈধ এ ধরনের কথা আরেক বিষয়। মসজিদের জায়গা ওয়াকফকৃত ছিল। তাই এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য বিবৃতি আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

শনিবার রাতে তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩৭ জন দগ্ধ হন। ২৮ জন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। এক জনকে চিকিত্সা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়েছে। বাকি আট জন শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিত্সাধীন।