দুর্গম এলাকা থেকে নারী কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা হবে

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৬

নারীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) নিয়োগে বিদ্যমান ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আসছে। ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্গম এলাকায় নারীদের নিয়োগ না করার জন্য বলা হচ্ছে। জেলা বা বিভাগীয় সদরের কাছাকাছি ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে সে সব এলাকায় নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হেলালুদ্দীন আহমেদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্গম এলাকায় নারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ না দিতে বিভাগীয় কমিশনারদের অনুরোধ করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শেখ ইউসুফ হারুন ইত্তেফাককে বলেন, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী-ই পদায়নের ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যতদূর সম্ভব উপেক্ষা করার কথা রয়েছে। কিন্তু নারী কর্মকর্তাদের সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে, নীতিমালা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

ঐ সচিবের হিসাব মতে, ৪৯২ উপজেলার মধ্যে কমবেশি ১৭০ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নারী। এর বাইরে ১৬০ জনের মতো নারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

গতকাল অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বৈঠক করেছেন। ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা রহমানের ওপর হামলা ও এ নিয়ে মামলা পরিস্থিতি ছাড়াও এ বিষয়ে মিডিয়ায় প্রচারিত ও প্রকাশিত বিভিন্ন খবর বিশ্লেষণ করা হয়। আরো কয়েক দিন এসব বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন নজর রাখবে ও পর্যবেক্ষণ করবে।

অ্যাসোসিয়েশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রচার ও প্রকাশকে অ্যাসোসিয়েশন গুরুত্বের সঙ্গেই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে। তবে অ্যাসোসিয়েশন আশা করে, কোনো প্ররোচণামূলক খবর প্রচার ও প্রকাশ হবে হতাশাজনক। সে ক্ষেত্রে সরকারি কাজে কর্মকর্তারা উত্সাহ হারাবেন। তবে এখন পর্যন্ত গণমাধ্যম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ঘোড়াঘাট কাণ্ডের পর নারী কর্মকর্তাদের যতদ্রুত সম্ভব দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। যতদূর সম্ভব জেলা ও বিভাগীয় সদরের কাছাকাছি উপজেলায় তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হবে।