আরো চার পুলিশ সদস্যের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৪

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি পুলিশের অপর চার সদস্য স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে বুধবার তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরা হলেন, পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন। এ পর্যন্ত এই মামলায় ১২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পেল আদালত। 

জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে র্যাবের একটি দল ঐ চার আসামিকে  কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে হাজির করে। এরপর দুজনকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেন ও অপর দুজনকে তামান্না ফারাহর আদালতের খাস কামরায় নিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে জবানবন্দি শেষ হলে তাদের কক্সবাজার         জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় তদন্ত সংস্থা র্যাব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাবের সিনিয়র এএসপি খাইরুল ইসলাম জানান, সিনহা হত্যা মামলার আসামি পুলিশের চার সদস্যকে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড আদেশ দেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে গতকাল তাদের আদালতে আনা হয়।

এর আগে ঐ মামলায় বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলালকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের মধ্যে লিয়াকত ও নন্দ দুলাল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও প্রদীপ রাজি হননি। তারা সবাই এখন কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। তিনি মারিশবুনিয়ার একটি পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলা হয়েছে। যার চারটি তদন্ত করছে র্যাব।