পৌর নির্বাচন ডিসেম্বরে!

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৭

দেশের সব পৌরসভায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। আগামী অক্টোবর থেকে পৌরসভাগুলো নির্বাচন উপযোগী হবে বলে মনে করছে ইসি। নির্বাচন উপযোগী পৌরসভা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানতে চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে বুধবার চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত ঐ চিঠিতে বলা হয়েছে, পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে নিম্নরূপ তথ্য প্রয়োজন :সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর শপথ ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ; সীমানা পরিবর্তন বা ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এমন পৌরসভার বিবরণী; সীমানা বা ওয়ার্ড বিন্যাসজনিত কারণে স্থগিত অথবা ইতিপূর্বে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এরূপ পৌরসভার তথ্য ও সর্বশেষ অবস্থা এবং মামলাজনিত কারণে ইতিপূর্বে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি অথবা নির্বাচন স্থগিত হয়েছে এরূপ পৌরসভার তথ্যসহ মামলার বর্তমান অবস্থা।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নির্বাচনযোগ্য পৌরসভা রয়েছে ৩২৮টি। এর মধ্যে নির্বাচন উপযোগী রয়েছে ২৫৬টি। তবে এই সংখ্যা       কমতে বা বাড়তে পারে। কেননা, মামলাসহ আইনি জটিলতার কারণে বেশ কিছু পৌরসভার নির্বাচন আটকে আছে। তবে নির্বাচিত পৌরসভাগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় একযোগে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভোটের জন্য ডিসেম্বরকে উপযুক্ত সময় বিবেচনায় নিয়েছে ইসি। এর আগে করোনা ভাইরাসের কারণে পৌরসভাগুলোয় আপাতত ভোট না করার পক্ষে মত দেন ইসি কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দলীয় প্রতীকে ২৩৪টি পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বাকি পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। আর নির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিয়ে প্রথম সভা করেন ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, নির্বাচিত পৌরসভার মেয়াদ হচ্ছে প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। আর ভোট করতে হয় সময় শেষ হওয়ার আগে ৯০ দিনের মধ্যে। ফলে আগামী অক্টোবরে দেশের পৌরসভাগুলোর নির্বাচনের জন্য সময় গণনা শুরু হবে। এক্ষেত্রে ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যেই ভোট করতে হবে। সম্প্রতি কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে সেগুলোতে ডিসেম্বরে ভোট গ্রহণের। তবে এবার মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে এবং কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়াসহ অন্যান্য বিদ্যমান যোগ্যতা-অযোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

ইসির তথ্যমতে, ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল ৭২ শতাংশ। আর প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৫২ দশমিক ২৯ শতাংশ, বিএনপি ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জাতীয় পার্টি ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ ভোট পায়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছিলেন ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোট। প্রায় ২৩টি রাজনৈতিক দল বিগত পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এর আগে ২০১১ সালে ২৮৫টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বছরের ১২ জানুয়ারি ৭৭টি, ১৩ জানুয়ারি ৪৭টি, ১৭ জানুয়ারি ৪৫টি এবং ১৮ জানুয়ারি ৩৫টি পৌরসভায় নির্বাচন হয়। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, করোনার কারণে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন আয়োজন বন্ধ আছে। অক্টোবর থেকে কমিশনের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘কোনো কারণে আমরা জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে না পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে আমাদের অপারগতার কথা জানিয়ে দেব। সেক্ষেত্রে সরকার বর্তমান মেয়রদের দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারে অথবা প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে। সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত।’