রোজিনা আক্তার (২৫) নামে এক নারীকে গত মঙ্গলবার তালতলী উপজেলা শহরের বাঁধঘাটে রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন উপজেলা যুবলীগ নেতা কামাল মোল্লা। এ ঘটনায় তালতলী থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
জানা গেছে, তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের রোজিনা আক্তার তালতলী শহরের বাঁধঘাট চৌরাস্তায় একটি খাবারের দোকানে বসে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার পরিচিত জলিল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে নাস্তা করছিল। এ সময় তালতলী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল মোল্লার সহযোগী সাগর চন্দ্র ও সাগর মিয়া এসে মোবাইলে রোজিনাদের ছবি তোলে। রোজিনা তাদের ছবি তুলতে বাধা দিলে ক্ষেপে যান সাগর চন্দ্র ও সাগর মিয়া। তর্কবিতর্কের এক পর্যায় তারা রোজিনাকে মারধর শুরু করেন। এ সময় যুবলীগ নেতা কামাল মোল্লা এসে রোজিনাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নামিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করেন। রোজিনার চিত্কারে অনেক লোক জমা হলেও কামালের ভয়ে কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি।
পরে স্থানীয়রা আহত রোজিনাকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে রোজিনা বাদী হয়ে তালতলী থানায় সাগর চন্দ্রকে প্রধান আসামি করে যুবলীগ নেতা কামাল মোল্লাসহ তিন জনের নামে মামলা করেন। পুলিশ প্রধান আসামি সাগর চন্দ্রকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে একটি প্রভাবশালী মহল যুবলীগ নেতাকে রক্ষায় উঠেপড়ে লেগেছেন।
আহত রোজিনা বলেন, আমরা নাস্তা করছিলাম। এ সময় দুটি ছেলে এসে আমাদের ছবি তুলছিল। আমি এর প্রতিবাদ করতেই তারা আমাকে মারধর শুরু করে। কিছুক্ষণ পরে কামাল মোল্লা এসে আমাকে ঐ ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে পেটায়। আমি বহু অনুনয়-বিনয় করেও কামাল মোল্লার হাত থেকে রক্ষা পাইনি। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক কামাল মোল্লা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাকে অহেতুক জড়ানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা যুবলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। অভিযোগের সত্যতা পেলে দ্রুত তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালতলী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার প্রধান আসামি সাগর চন্দ্রকে গ্রেফতার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
