চিনের উহান প্রদেশে উত্পত্তি হয়ে সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে অস্ট্র্রেলিয়ার মেলবোর্ন, ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে রিকজাভিক সর্বত্র এমন এক ভাইরাসের থাবা পড়েছে যার সঙ্গে পৃথিবী আগে পরিচিত ছিল না। স্তব্ধ হয়ে পড়েছে জনজীবন। লকডাউনের কবলে পড়ে বিশ্বের ধনী দেশগুলিও অর্থনৈতিক চরম মন্দার সম্মুখীন হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা এই মরণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য চিকিত্সাবিজ্ঞানের অসহায়ত্ব পরিলক্ষিত হয়েছে। অর্থাত্ এ রোগ নিবারণের কোনো ওষুধ এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। যদিও বিশ্বব্যাপী চলছে মানুষের জীবন বাঁচাতে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে প্রচেষ্টা। একমাত্র সতর্কতা ও ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার উপায় বাতলে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশ। দেশে দেশে চিকিত্সক এবং বিশেষজ্ঞরা মানুষকে সচেতন থাকতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কারো এ রোগ হলে কীভাবে যত্ন নিতে হবে, কোন ধরনের সেবাযত্নে রোগমুক্তি হতে পারে তার পরামর্শ নিয়ে বিশ্বব্যাপী পত্রপত্রিকায় বের হচ্ছে প্রতিবেদন, লিখে ফেলা হচ্ছে গবেষণা গ্রন্থ।
বাংলাদেশেও এই রোগের প্রকোপ তীব্র। এর মধ্যে দুই লক্ষাধিক মানুষ করোনা ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ এই কোভিড-১৯ নামক রোগে প্রাণ দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের পত্রপত্রিকাতেও প্রকাশিত হচ্ছে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ ও নানা পরামর্শ। করোনা ভাইরাস নিয়ে ইউরোপ আমেরিকায় ইতিমধ্যে অনেকগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে স্ল্যাভো সিজেকের প্যানডেমিক, ডেবোরা ম্যাকেঞ্জির কোভিড-১৯, ফ্যাঙ ফ্যাঙ-এর উহান ডায়েরি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক লিজ হফম্যানের গোয়িং ডার্ক অথবা অ্যাডাম টুজ-এর শশাটডাউনসহ আরো অনেক বইয়ের নাম বলা যায়। এর মধ্যেই কয়েকটি বই বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে করোনাকালীন অর্থনীতির মন্দা নিয়েও গ্রন্থ। কেউ আবার লিখেছেন ফিকশন। এমনকি প্রকাশিত হয়েছে অ্যলেস কুইনের নেতৃত্বে প্যানডেমিক বিষয়ে কবিদের কবিতা। নতুন করে অ্যালবার্ট কামু-র ‘দি প্লেগ’ বইটি আবার উঠে এসেছে বিক্রির শীর্ষ তালিকায়।
কিন্তু বাংলাদেশে উল্লেখ করার মতো কোনো গ্রন্থ আমাদের চোখে পড়েনি। এই প্রথম করোনা ভাইরাস নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। লিখেছেন স্বাস্থ্য ও চিকিত্সা বিষয়ক লেখক ড. সুজাতা মুখোপাধ্যায়। অত্যন্ত সময়োপযোগী এই গ্রন্থে তিনি জানিয়েছেন কীভাবে সচেতনতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, কোভিড ১৯-এর উপসর্গগুলি কী, এই ভাইরাস এড়িয়ে চলার উপায় কী, এ রোগ থেকে সেরে ওঠার পথে এবং পরে কী করণীয়। মানুষের সচেতনতার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণই বটে। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন পৃথিবীর ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে মহামারির ঘটনাবলি। ১৯৩ পৃষ্ঠার এই মূল্যবান বইটি প্রকাশ করেছে অঙ্কুর প্রকাশনী। বইটি পড়লে নিশ্চয়ই কোভিড সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে।
