ধরলার ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলিন হয়েছে দেলদার হোসেনের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানালেন, আমার বাড়িসহ ৫৪টি পরিবারের সবকিছু ধরলা গিলে খাঁইছে বাহে! এখন আমরা কীভাবে যে বেঁচে আছি এক আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। ভাঙনের শিকার সাইদুল ইসলাম জানালেন, আমার বাড়ি কয়েকবার ধরলার গর্ভে চলে গেছে। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। গৃহবধূ রাহিলা বেগম জানালেন, সব কিছু হারিয়ে আমরা এখন নিঃস্ব। কথাগুলো কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা পাড়ের চর মেকলি খন্দকার পাড়া গ্রামের ভাঙনের শিকার ভুক্তভোগীদের। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো নিরূপায় হয়ে নিকটস্থ কেয়ারের রাস্তা ও অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদিকে, পানি যতই কমছে ততই ধরলার ভাঙন তীব্র হচ্ছে। এরই মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের ছয়টি খুটি বিলীন হয়েছে। তাছাড়া, গত ১৫ দিনে ৫৪টি পরিবার, একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেখলির চর খন্দকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে একটি ঈদগাহ ও একটি মসজিদ যে কোনো মুহূর্তে ধরলায় বিলীনের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
সরেজমিনে বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙন এলাকায় লোকজন জড়ো হয়ে নিজ নিজ বাড়িঘর অন্য স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। ধরলার তীব্র ভাঙনের কারণে তারা কয়েকদিন থেকে রাতে ঘুমান না। কখন যে ভেঙে বাড়িঘর নদীর স্রোতে ভেসে যায়। ঘরবাড়ি সরানোর পাশাপাশি গাছপালা, বাঁশঝাড় কাটার হিড়িক পড়েছে। তাও সব রক্ষা করা যাচ্ছে না। বড়ভিটা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের ভাষায়, হামার বাড়ি এক সপ্তাহ আগে ধরলায় ভাঙ্গি ফেলাইছে। কোনো মতে কেয়ারের রাস্তায় ঘর বানাইয়া আছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ধরলা নদী শাসনের প্রয়োজন। তাছাড়া ধরলার ভাঙনে আশ্রয়হীন পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল নির্মাণের দাবির কথা জানান তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, আমি ধরলার ভাঙন এলাকাগুলো বুধবার সকালে পরিদর্শন করেছি। আমরাও ভাঙন রোধ করতে চেষ্টা করছি। স্থানীয়রাও চেষ্টা করছেন ধরলার ভাঙন ঠেকাতে। বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন। সেই সঙ্গে সরকার যদি স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেয়, সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থায় ভাঙনকবলিত ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

