৫০ নাগরিকের বিবৃতি

কুমিল্লার বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও পাঠাগার ভবনকে হেরিটেজ সাইট ঘোষণার দাবি

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৩৬

১৩৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা টাউন হলের বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও পাঠাগারের আদি ভবন ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের বিরোধিতা করে তা রক্ষায় দেশের ৫০ নবীন প্রবীণ শিল্পী-সাহিত্যিক বিবৃতি প্রদান করেছেন।

বিবৃতিতে অবিলম্বে কুমিল্লার বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও পাঠাগারের আদি ভবন বিনাশের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কুমিল্লা টাউন হল প্রাঙ্গণে অবস্থিত উপমহাদেশের চিন্তাচর্চার অন্যতম সূতিকাগার ‘থিওসফিক্যাল সোসাইটি’র ভবনটিও সুরক্ষা করে পুরো প্রাঙ্গণকে ‘ঐতিহ্য এলাকা’ (Heritage Site) ঘোষণা ও সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে এ বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই ভবন ভাঙার পরিকল্পনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যের মূলে কুঠারাঘাত। ঐতিহ্যবিনাশী এ ধরনের পরিকল্পনা অগ্রহণযোগ্য। ইতিহাসের কিছু কিছু নিদর্শন রেখে দিতে হয় পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। নইলে ইতিহাস-বিস্মৃতির প্রবণতা মাথাচাড়া দেয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ১৮৮৫ সালে ত্রিপুরার মহারাজা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এ মিলনায়তন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবাহী স্থান। এ মিলনায়তনে এর আগেও মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এখানে এসেছেন। তাদের স্মৃতি রয়েছে এ ভবনকে ঘিরে। মিলনায়তনসংলগ্ন পাঠাগারটি দেশের প্রাচীনতম পুস্তক সংগ্রহালয়ের অন্যতম। শতবর্ষী এ ভবনে মঞ্চস্থ হয়েছে বাংলার সেরা সব নাটক।

বিবৃতি প্রদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হচ্ছেন আহমদ রফিক, সন্জীদা খাতুন, ইমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, নির্মলেন্দু গুণ, অধ্যাপক যতীন সরকার, শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক হায়াত্ মামুদ, হাসান আজিজুল হক, মুনতাসীর মামুন, সেলিনা হোসেন, আনিসুল হক, আসাদ চৌধুরী, রুবী রহমান, হাশেম খান, আনোয়ারা সৈয়দ হক, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, ফেরদৌসী মজুমদার, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, আবুল আহসান চৌধুরী, সৈয়দ আবুল মকসুদ, মফিদুল হক, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মুহাম্মদ সামাদ, মাহফুজা খানম, তারিক সুজাত, স্বকৃত নোমান, পিয়াস মজিদ, মোজাফ্ফর হোসেন প্রমুখ।