বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরি। বিশেষ করে পরমাণু শক্তি ও দক্ষ জনশক্তি গড়তে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চায় দেশটি। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে এই বার্তা দিয়েছেন হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তো।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকশেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিজার্তো বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পরমাণু শক্তিবিষয়ক শিক্ষায় সহযোগিতা দেবে তার দেশ। কূটনৈতিক প্রশিক্ষণে দুই দেশ একে-অপরকে সহযোগিতা করবে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
বুধরার গভীর রাতে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী পিটার সিজার্তো ঢাকায় এসে পৌঁছান। গতকাল সকালে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। সংক্ষিপ্ত সফর শেষে গতকাল সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে হাঙ্গেরির মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আগামী জানুয়ারির মধ্যে কনস্যুলেট অফিস খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরাতে তার দেশ বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানান। তিনি বলেন, হাঙ্গেরির ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে হাঙ্গেরি অ্যাগ্রোফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিসহ বাংলাদেশের বিশুদ্ধপানি ব্যবস্থাপনা ও ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এজন্য একটি জয়েন্ট ট্রেড কমিশন গঠন করা যেতে পারে।
বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য হাঙ্গেরির ব্যবসায়ীদের ২১ কোটি ইউরো ঋণ দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সুবিধা হচ্ছে হাঙ্গেরির কোম্পানিরা এই বড় বাজারে ব্যবসা করতে পারবে এবং নতুন পরিস্থিতিতে তাদের বৈশ্বিক অবস্থান মজবুত হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, করোনার মহামারির সময়ে এই প্রথম কোনো দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন। আমরা রোহিঙ্গা, পরমাণু খাত, ইলেকট্রনিকস, অ্যাগ্রো প্রসেসিংসহ বিভিন্ন সহযোগিতা খাত নিয়ে আলোচনা করেছি। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা সফরের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং তারা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন।
তিনি বলেন, রাশিয়ার কোম্পানি রোসটাম বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরিতে একই ধরনের নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট বানাচ্ছে এবং এই বিষয়ে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের জন্য হাঙ্গেরি বাংলাদেশি ছাত্রদের ৩০টি স্কলারশিপ দেবে। এছাড়া চিকিত্সাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০টি স্কলারশিপ থাকবে। বাংলাদেশে এটিই প্রথম হাঙ্গেরির কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর।
