চেতনায় বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৩৬

দৈনিক ইত্তেফাক এর ‘অনুশীলন স্কুলে-স্কুলে’ ও স্বপ্ন ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন আয়োজিত ‘শেখার জন্য লেখা’ এর এবারের বিষয় ছিল ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’। শোকের মাস আগষ্ট এ আমরা স্মরণ করছি জাতির মহানায়ককে এবং তাঁর অবদানকে। আর তার আদর্শকে ধারণ করা নতুন প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনাকে তুলে ধরতেই এবারের আয়োজনে ছিল ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’।  এই লেখা প্রতিযোগিতার প্রথম তিনজনের লেখা ছাপানো হবে ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতায়।

নুসরাত জাহান নিঝুম

কৃষি অনুষদ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

একজন ব্যক্তি,একটি সত্তা কিন্তু একাধিক অনন্য সাধারণ চেতনায় উদ্দীপ্ত একটি মানবরূপ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাল্যকালের সেই খোকা প্রাপ্ত বয়সে হয়ে ওঠে বাংলার জনমানুষের নেতা, জনগণের ভালোবাসায় অভিষিক্ত হয়ে অর্জন করে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি।

তাঁর মধ্যে ছিল মানবিক গুণাবলির এক অনন্য সংমিশ্রণ, তিনি যেমন হূদয়বান,মানব দরদী, পরোপকারী ছিলেন, তেমনি আবার ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, দাবি আদায়ে আপোষহীন। ১৯৪৪ সালে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর এক সংগ্রামবহুল রাজনৈতিক জীবনের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন অতিবাহিত হয়। তাঁর ৫৫ বছরের ক্ষুদ্র জীবনে রাজনীতির নানান টানাপোড়েনের জন্য তাঁকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছিল, কিন্ত এসব কিছুই তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে তিনি বারবার ছুটে যেতেন। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন,৬৬-র ছয়দফা,৬৯-র গণঅভ্যুত্থান,৭০-র সাধারণ নিবার্চন,৭১-র মুক্তিযুদ্ধ, প্রতিটি আন্দোলনে ছিল তাঁর অসামান্য সমর্থন ও ভূমিকা। ১৯৬৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি পূর্ব বাংলাকে ‘বাংলাদেশ’ নামে নামকরণ করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ, তত্কালীন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তপ্তকণ্ঠে অগ্নিঝরা বিকেলের সেই ভাষণে উত্তাল হয়ে উঠে জনসমুদ্র, তার বজ্রকণ্ঠী স্লোগান ু”এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম “ -এ লাখো লাখো বাঙ্গালি প্রাণ সেদিন সম্মিলিত হয়েছিল বাংলাকে মুক্ত করার ও বিজয়ের পতাকা ছিনিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয়ে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলার স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার পরপরই তাঁকে পাকিস্তান সরকার বন্দী করেছিল ঠিকই, কিন্তু বাঙ্গালি প্রাণে তাঁর দেয়া বিজয়মন্ত্র মুছে ফেলতে পারেনি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর বহুদিনের লালিত সেই বিজয় উল্লাসে উল্লসিত হয়ে উঠে বাঙ্গালি কোটি প্রাণ। ২০২০ সাল,আজ ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই ঠিকই,কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ,চেতনা-মৃত্যুঞ্জয়ী,চির অম্লান হয়ে আছে। এখনও যখন বিভিন্ন সময়ে ছাত্র আন্দোলনগুলোতে “জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান ধ্বনিত হয়ে উঠে, মনে হয় যেন বঙ্গবন্ধু উজ্জীবিত হয়ে উঠে, প্রতিটি প্রাণ যেন একেকটা মুজিব হয়ে ফুটে উঠে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনা মিশে আছে প্রতিটি বাঙ্গালি প্রাণের অস্তিত্বের সাথে। বাঙ্গালির স্মৃতিপটে বঙ্গবন্ধু একজন অবিসংবাদিত নেতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, স্বাধীন বাংলা গড়ার রূপকার,ক্ষুধামুক্ত,দারিদ্র্যতামুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা,চিরঅমর একটি সত্তা। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীকে উত্সর্গ করে বলতে চাই-

বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা,

বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা।

আমাদের মাঝে তুমি রবে চিরকাল,

তোমাকে নিয়েই জেগে উঠে প্রতিটি সকাল।