জাকারিয়া জাহাঙ্গীর
বৈশ্বিক মহামারি ‘নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)’ পুরো বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। এই দুর্যোগের কাছে মানুষের অর্থ, অস্ত্র, ক্ষমতা, সভ্যতা মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিদিন মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে মানুষের দুয়ারে হাজির হচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা। লাখ লাখ মানুষকে সংক্রমণ আর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু বিশ্বকে আজ এক কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছে। সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে এবারই প্রথম সবগুলো রাষ্ট্র একসঙ্গে একই দুর্যোগের মুখোমুখি। এই অবস্থায় সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ, নির্ধারিত দূরত্ব (কমপক্ষে তিন ফিট) বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি পালন করা ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আমাদের আর তেমন করণীয় নেই। আমাদের সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। এবারের যুদ্ধটা পরিবারের খুব কাছের মানুষের সঙ্গে, সমাজের ঘনিষ্ট বন্ধুর সঙ্গে, দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহকর্মীর সঙ্গে। আমরা কেউ কারো সামনে নিরাপদ নই, কার দেহের জীবাণু কাকে আক্রমণ করবে তা আমরা কেউই বলতে পারব না।
কিছুক্ষণ পরপর এবং যে কোনো খাবার গ্রহণের আগে অবশ্যই সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে উভয় হাত (কব্জি পর্যন্ত উভয় পাশ ও নখের ভেতর-বাহিরসহ) ধোয়া, জীবাণুনাশক হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহার, ঘন ঘন বিশুদ্ধ পানি পান, বেশি বেশি ভিটামিন সি জাতীয় খাবার গ্রহণ, কাপড়, বিছানা, নিত্যব্যবহূত জিনিসপত্র নিয়মিত পরিস্কার রাখা, ভালোভাবে ধুয়ে ও বেশি সেদ্ধ করে রান্না, অপরিষ্কার হাত দিয়ে মুখ, চোখ, নাক স্পর্শ না করা, হ্যান্ডশ্যাক, কোলাকুলি, গা ঘেঁষে না বসা, গাদাগাদি করে ঘুমানো বর্জন, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা কনুইয়ে ঢাকা, ব্যবহূত টিস্যু ফের ব্যবহার না করা, বাসাবাড়ি, টয়লেট, রান্নাঘর যথেষ্ট পরিস্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা প্রয়োজন। মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ তথা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা। বাইরে যেতে হলে অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস পরিধান করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পাশেই আছেন। মনে রাখবেন, তাঁরা যা করছেন, ভালোর জন্যই করছেন। সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে তাঁদের কাজ করতে দিন। সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া এ বিপদ ঠেকানো সম্ভব নয়। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে, আমাদের মতো সাধারণ মানুষই পারে করোনাকে রুখে দিতে। প্রচুর টাকা কিংবা ক্ষমতা থাকলেও আপনি নিরাপদ নন, ইতিমধ্যেই বিশ্বের ক্ষমতাধর অনেক ব্যক্তিও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
সামাজিক দূরত্ব রক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ান। দেশের এই অবস্থায় খেটে খাওয়া অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সরকারি বরাদ্দে জনপ্রতিনিধিদের লোভ ও আত্মসাতের মানসিকতা পরিহার করতে হবে। বেঁচে থাকলে অঢেল অর্থের মালিক হতে পারবেন। তাই মানবতার সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করুন। দেখছেন তো, মৃত্যু কীভাবে তাড়া করে বেড়াচ্ছে! না বাঁচলে কোনো কাজেই আসবে না আপনার ধন-দৌলত। সমাজের অসহায়দের সাহায্য করলে, হয়তো তাঁদের দোয়ায় রক্ষা হবে আপনার সম্পদ। দেশটা আবারও হাসি-আনন্দে ভরে উঠলে, তবেই কাজে লাগবে বিত্ত। ভালো থাকব আমরা সবাই। যে যার অবস্থান থেকে যুদ্ধটা চালিয়ে যেতে হবে। আসুন নিজে বাঁচি, নিজের পরিবারকে বাঁচাই, দেশ বাঁচাই। বাঁচিয়ে রাখি মানবতা ও আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী।
জামালপুর
