সংকুচিত সড়কে যানজট, চলাচলে ব্যাঘাত
নিলয় মামুন
রাজধানীর উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরে উত্তরা পশ্চিম থানার সামনে বছরের পর বছর জব্দকৃত শত শত গাাড়ি রেখে সড়ক দখল করে রাখা হয়েছে। ফলে এই সড়কে তৈরি হয় যানজট। এলাকাবাসীর চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে প্রতিদিন। সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরা পশ্চিম থানার সামনের সড়কের দুই লেনে তিনটি ট্রাক, তিনটি পিকআপ তিনটি বাস ও সাত-আটটি প্রাইভেট কার ও শত শত মোটরসাইকেল রাখা হয়েছে। থানার সামনে ছাড়াও আশেপাশের সড়কে এসব গাড়ি রাখা হয়েছে। ১৭ নম্বর সড়কে দেখা যায়, জব্দকৃত একটি বালুর ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের ঘাস জন্মেছে। এভাবে সড়কের পাশাপাশি মানুষের বাড়ির সামনে ট্রাক রাখার কারণে বিপাকে পড়ে এলাকাবাসী। জব্দকৃত গাড়ি জং ধরে সেগুলো সড়কের ওপর খসে পড়ছে। থানা থেকে একটু দূরে সড়কে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি কাভার্ড ভ্যান রাখা হয়েছে। সেটি থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশবিশেষ খসে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে থানা ভবনের পাশে একটি খালি প্লটে বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা গাড়ি রাখা হতো। জব্দ করা গাড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রে প্লটটি ভরে যাওয়ায় এখন রাস্তার ওপর গাড়ি রাখা হচ্ছে। প্রথম দিকে শুধু থানার সামনের অংশে গাড়ি রাখা হতো। ধীরে ধীরে গাড়ি থানার সামনের অংশ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক ভরে যাচ্ছে। ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয় যানজট। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কের বাসিন্দা জামাল চৌধুরী বলেন, সড়কে এভাবে গাড়ি রাখার কারণে চলাচলে সমস্যা হয়। অথচ বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই।
গাড়িগুলো দীর্ঘদিন রাখার কারণে রাস্তারও ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি সেক্টরের বাসিন্দা আবু জাফরের। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে অ্যারোনটিক্যাল কলেজের পশ্চিম পাশে একটি বড় কাভার্ড ভ্যান রাখা হয়েছিল। পরে সেখানে সড়কের কিছু অংশ দেবে গাড়িটি একপাশে কাত হয়ে যায়। পরে গাড়িটি রেকার দিয়ে টেনে তোলা হয়। আবারও সেখানে গাড়ি রাখা হয়েছে।
এলাকার আরেক বাসিন্দা ফজল হোসেন বলেন, থানার গাড়ি হওয়ায় কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। অথচ এর মাধ্যমে এত জঞ্জাল হয়ে গেছে এই এলাকাটা। এ নিয়ে কারো কোনো কথা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তরা-পশ্চিম থানার পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনার পর করা মামলার আলামত হিসেবে গাড়িগুলো জব্দ করা হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় লাগে। অন্যদিকে জব্দ করা গাড়ির সংখ্যাও বাড়ছে। তাই রাস্তায় গাড়ি রাখা ছাড়া উপায় নেই। এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র শাহা ইত্তেফাককে বলেন, ‘জব্দকৃত গাড়ি রাখার জন্য আলাদা কোনো জায়গা নেই। যার কারণে এভাবে রাখা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে জানিয়েছি। জায়গার ব্যবস্থা না হওয়া ছাড়া এগুলো সরানো সম্ভব হচ্ছে না।
