মির্জাপুরে ১০ লাখ টাকা নিয়ে ভুয়া এনজিও উধাও

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:০৯

বিপাকে গ্রাহকরা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

ভ্যাকসিনকো গ্রুপ নামে ভুয়া একটি এনজিও গ্রাহকদের বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুয়া এনজিওর মালিক ও প্রতারক চক্রের সদস্যরা এলাকার অসহায় গ্রাহকদের জমানো প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে গেছে। এতে শত শত গ্রাহক পড়েছেন চরম বিপাকে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পৌরসভার বাইমহাটি পালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভুক্তভোগী গ্রাহক ও ভুয়া এনজিওতে চাকরি নেওয়া মাঠ কর্মীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ব্যবসায়ী সঞ্চয় সমিতি ভ্যাকসিনকো গ্রুপ নামে ভুয়া এনজিওতে চাকরি নেওয়া (মাঠকর্মী) বানিয়ারা গ্রামের রিয়া, মির্জাপুর পৌরসভার প্রতিমা ও ইশা এবং পাকুল্যা গ্রামের খাদিজা অভিযোগ করেন, গত ৩১ আগস্ট এনজিওটি মির্জাপুর উপজেলা সদরের পৌরসভার বাইমহাটি পালপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের বাসা ভাড়া নিয়ে অফিস করে। জাহাঙ্গীর হোসেন পরিচালক, রবিন হোসেন ম্যানেজার এবং সুমন মিয়া ক্যাশিয়ার পরিচয় দেন। প্রতারক চক্রটি মোটা বেতনে মাঠকর্মী নিয়োগের সার্কুলার দেয়। সার্কুলার দেখে তারা আবেদন করলে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে ১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তাদের রাজধানী ঢাকায় হেড অফিস রয়েছে বলে জানায়। একদিন প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রতারক চক্রটি তাদের জানায়, একজন গ্রাহক ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিলে তাকে ১ লাখ টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে এবং এটা বলে টাকা উত্তোলন করতে নির্দেশ দেয়। এছাড়া বেশি অঙ্কের টাকা ডিপোজিট করলে তাদের ১৫-২০ শতাংশ লাভ দেওয়া হবে। গত ৯ দিনের ব্যবধানে ১৯ মাঠকর্মী গ্রামে গ্রামে ঘুরে সদস্য সংগ্রহ করে ঋণ দেওয়ার নামে প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে এনজিওর মালিকদের হাতে তুলে দেন।

গ্রাহকদের মধ্যে মাহবুব ফকির ৫ হাজার টাকা, পবিত্র সরকার আড়াই হাজার টাকা, আনোয়ার হোসেন ৩৫০ টাকা এবং আতোয়ার রহমান ৬০০ টাকা জমাসহ শত শত গ্রাহক টাকা জমা দেন ঋণ পাওয়ার আশায়। কিন্তু তাদের সে আশায় গুড়ে বালি। একদিকে করোনার থাবা, অপর দিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারগুলো ঐ এনজিওর ফাঁদে পড়ে পথে বসেছেন বলে অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে মাঠকর্মী ও গ্রাহকরা অফিসে এসে দেখে সেখানে তালা ঝুলছে। রাতের আঁধারে প্রতারক চক্র অফিসে তালা দিয়ে টাকা ও মালামাল নিয়ে চম্পট দিয়েছে বলে বাড়ির মালিক জানান।

ভুয়া এনজিওর মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন (পরিচালক) রবিন হোসেন (ম্যানেজার) এবং সুমন মিয়ার (ক্যাশিয়ার) মোবাইলে এবং অফিসের নম্বরে (০১৮৯২-৩৫৫৫৫৩) বার বার যোগাযোগ করা হলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ভ্যাকসিনকো গ্রুপ নামে ভুয়া এনজিও গ্রাহকদের টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।