ওসি আমিরুল ইসলাম ইউএনওর ওপর হামলা

ঘোড়াঘাট থানার ওসি প্রত্যাহার, সন্দেহের তির মালির দিকে

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১৩

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনার আট দিন পর গতকাল শুক্রবার ওসি আমিরুল ইসলামকে ঘোড়াঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদিকে এই হামলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিবি পুলিশের সন্দেহের তীর এখন ইউএনওর বাসভবনের সাবেক মালি রবিউল ইসলাম ফরাসের দিকে বলে জানা গেছে।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে আনা হয়েছে। সেখানে নতুন ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রংপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিমউদ্দীনকে। তবে ইউএনওর ওপর হামলা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়নি।

এদিকে হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বিকালে দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে সোপর্দ করে ডিবি পুলিশ। আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে নতুন করে রিমান্ড আবেদন না আসায় তাদের দুজনকেই জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর সাংবাদিকদের জানান, এই মামলার অপর আসামি আসাদুল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড আজ শনিবার শেষ হবে। রিমান্ডে তাদের কাছ থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে কি-না,  সে সম্পর্কে কিছু জানাননি তিনি।

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি এবং অনেক দূর এগিয়েছি। আগামী দুই/এক দিনের মধ্যেই একটা ভালো রেজাল্ট উপহার দিতে পারব বলে আশা করছি। 

সন্দেহের তীর মালির দিকে

গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাতে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও ওমর আলী শেখকে নির্মমভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ইউএনওর বাসভবনের সাবেক মালি রবিউল ইসলাম ফরাসকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের শেষের দিকে ফরাস অস্থায়ী ভাবে মালি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ওয়াহিদা খানমের বাসভবনে। কিছুদিন পর ১০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে বিচার না করে জেলা প্রশাসকের নিকট রিপোর্ট করেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি আমলে নিয়ে ফরাসকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। ঐ ঘটনায় মালি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে এমন ধারণা করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। গত বৃহস্পতিবার ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্ত নাকি শেষ পর্যায়ে এমন কথাও জানিয়েছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, রবিউল ইসলাম ফরাসের বাড়ি জেলার বিরল উপজেলায়।