‘আমি বাংলা মায়ের ছেলে’

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১৫

খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কথা তার গানে। সাধারণ মানুষের প্রেম, বিরহ, অসহায়ত্ব উঠে আসে তার গানে। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সব অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। তিনি বাউল শাহ আবদুল করিম। আজ তার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী।

বাউল শাহ আবদুল করিম ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করলেও তার গান যত দিন যাচ্ছে ততই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তিনি নেই কিন্তু তিনি রেখে গেছেন এক সৃষ্টিশীল কর্মজীবন। তিনি তার গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ এবং দুদ্দু শাহ-এর দর্শন থেকে। তিনি বাউল সংগীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বাংলা সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০০১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। দিরাইয়ের উজানধল গ্রামে আমৃত্যু বসবাস করেন। সুনামগঞ্জের কালনী নদীর তীরে বেড়ে উঠেন শাহ আব্দুল করিম। দারিদ্র্য ও জীবন সংগ্রামের মধ্যে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের সংগীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই।

আবদুল করিম অসংখ্য গান বেঁধেছেন, দিয়েছেন সুর। কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধু ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। এই সময় বেশ কয়েকজন নাগরিক শিল্পী বাউল শাহ আবদুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই সময় তার গানের কথা তার প্রতি সারাদেশের মানুষের আকর্ষণ তৈরি করে। এরপর মূল গান মূল সুরেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বাংলার মানুষের মধ্যে।

২০০৬ সালে সাউন্ড মেশিন নামের একটি অডিও প্রকাশনা সংস্থা তার সম্মানে ‘জীবন্ত কিংবদন্তি : বাউল শাহ আবদুল করিম’ নামে বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া তার জনপ্রিয় ১২টি গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে। শিল্পীর চাওয়া অনুযায়ী ২০০৯ সালের প্রথম দিকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে বাউল আবদুল করিমের সমগ্র সৃষ্টিকর্ম নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। বাংলা একাডেমির উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

তার অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে—বন্দে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে, আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না, ঝিলঝিল ঝিলঝিল করে রে ময়ূরপঙ্খি নাও, তোমার কি দয়া লাগে না, সাহস বিনা হয় না কভু প্রেম, আমি বাংলা মায়ের ছেলে, আমি কূলহারা কলঙ্কিনী, কোন মেস্তরি নাও বানাইছে, কেন পিরিতি বাড়াইলা রে বন্ধু, মন মিলে মানুষ মিলে সময় মিলে না, আমার মাটির পিনঞ্জিরায় সোনার ময়নারে, বসন্ত বাতাসে সই গো, সখী কুঞ্জ সাজাও গো, আসি বলে গেল বন্ধু আইল না প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

দিরাই (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, বাউল শাহ আবদুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তার জন্মস্থান দিরাইয়ে উদ্যাপিত হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—তার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ, কোরআনখানি ও আলোচনা সভা। বিকালে দিরাই প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।