বদরগঞ্জে গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। গৃহপালিত পশু পালনে কৃষকদের এখন ভরসা নেপিয়ার জাতের ঘাস। অতিবর্ষণ, বন্যা এবং করোনার সময়ে গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা যখন নিজ নিজ পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন ঠিক তখনই গৃহপালিত পশুদের গোখাদ্য সংকটের বিষয়টি তাদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। গোখাদ্য সংকটের কারণে ইতিমধ্যে অনেক কৃষকই কম দামে তাদের পশুগুলোকে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে গোখাদ্য সংকটের কথা এবং নেপিয়ার জাতের ঘাসে কৃষকের ভরসার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ফাটকের ডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মাজেদ আলির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ, অন্যের জমি চাষ করি কোনো রকমে জীবন চালাই। বাড়তি আয়ের জন্যে গরু-ছাগল পালি। কিন্তু এখন গরু-ছাগলের খাবার নিয়া খুব চিন্তায় আছি। মানুষের বর্গা নেওয়া জমিত নেপিয়ার ঘাস চাষ করছি, সেইটাই এখন ভরসা।’ একই গ্রামের কৃষক গোলাম মওলা ও মোতালেব হোসেন বলেন, গরুর খাদ্য সমস্যার জন্যে হামরা হামার গরু কম দামে বিক্রি করি দিছি। কালুপাড়া ইউপির কুমারপাড়া গ্রামের নেপিয়ার ঘাস চাষি আমজাদ আলি জানান, নেপিয়ার জাতীয় ঘাস দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় চারা লাগানোর মাসখানেকের মধ্যে একবার কাটা যায়। আবার ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই কেটে নেওয়া ঘাসগুলো বড় হয়ে যায়।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মো. জোবাইদুর রহমান মামুন গোখাদ্য সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, অতিবৃষ্টি, বন্যার কারণে উপজেলায় গোখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বর্তমানে গৃহপালিত পশু খাদ্যের জন্য নির্ভরতার আরেক নাম নেপিয়ার ঘাস। দ্রুত বর্ধনশীল, উত্পাদন খরচ কম ও লাভজনক হওয়ায় এলাকার চাষিরা দিনদিন নেপিয়ার জাতীয় ঘাস চাষাবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এতে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন অপরদিকে গোখাদ্য সংকট নিরসনেও ভূমিকা রাখছেন।
