n নির্দেশ প্রত্যাখ্যান দ. আফ্রিকান বোর্ডের n আইসিসি নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা
স্পোর্টস রিপোর্টার
গত বছর ডিসেম্বর থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ডে (সিএসএ) নানা ধরনের অস্থিরতা চলছে। বোর্ডের প্রধান নির্বাহীকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে ঝামেলার শুরু। এরপর পরিস্থিতি ঠিক করতে গ্রায়েম স্মিথসহ বেশ কিছু সাবেক ক্রিকেটারকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংকট কাটেনি।
অবশেষে সিএসএ-এর বোর্ড সদস্য ও প্রধান নির্বাহীসহ সিনিয়র কর্মকর্তাদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকান স্পোর্টস কনফেডারেশন অ্যান্ড অলিম্পিক কমিটি (এসএএসসিওসি)। দেশটিতে ক্রীড়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই এসএএসসিওসি। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্রিকেট বোর্ডে প্রতিষ্ঠিত হলো সরকারের নিয়ন্ত্রণ।
এখন বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এটি সরকারি হস্তক্ষেপ বলে প্রমাণিত হলে আবারও ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ, আইসিসির সংবিধানে ২.৪ ধারা অনুযায়ী কোনো বোর্ডের কার্যক্রমে ঐ দেশের সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার বলার চেষ্টা করছে এসএএসসিওসি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়; স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তাই তাদের নির্দেশকে সরকারি হস্তক্ষেপ বলা যাবে না। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বোর্ড এখনো এসএএসসিওসির এই নির্দেশ মেনে নেয়নি। তারা বলেছে, আদৌ প্রতিষ্ঠানটির এই নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা আছে কি না, সেটা ক্ষতিয়ে দেখছে তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকান বোর্ডের মধ্যে নানা ধরনের অনিয়ম হচ্ছে বলে বেশ কিছুদিন ধরেই সাবেক ক্রিকেটাররাও অভিযোগ করছেন। সেই অনিয়ম ও অন্যায় দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে এসএএসসিওসি। তারা সর্বসম্মতিক্রমে সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত করার জন্য একটা টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। আর এই তদন্তের স্বার্থেই বর্তমান কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করতে হবে।
আইসিসি এখনো এই ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে আইসিসির সাবেক প্রধান ও বর্তমান দক্ষিণ আফ্রিকার একজন স্বাধীন ক্রীড়া আইনজীবী আলী বাখের বলেছেন, এখনই নিষিদ্ধ না করলেও আইসিসি পরিস্থিতির ওপর কঠোরভাবে চোখ রাখবে বলেই তিনি ধারণা করছেন। আইসিসি হয়তো এসএএসসিওসির কাছে একটি ব্যাখ্যাও দাবি করবে।
এদিকে আকস্মিক এই ঘটনার পর সিএসএ এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ না দিয়েই এসএএসসিওসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে তারা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। তারা বরং আইনি পরামর্শ নিচ্ছে যে, এসএএসসিওসির আদৌ এই নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা আছে কি না।
