আইনি প্রতিকারের আশায় ক্যাসিনো হোতাদের কেউ কেউ হাইকোর্টে

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:৩৩

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। ঐ অভিযানে গ্রেফতার হয় অনেকেই। গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশই যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয় দল থেকে। করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ ছিল মামলার বিচারকাজ। এখন খুলেছে কোর্ট। শুরু হয়েছে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম। চলছে অনেক মামলার তদন্ত। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতাদের কেউ কেউ উচ্চ আদালতে দ্বারস্থ হচ্ছেন জামিনের জন্য। কেউ আসছেন জব্দকৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবমুক্তির জন্য। আবার কেউ আসছেন মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন নিয়ে। এসব আবেদনের শুনানিতে জোরালো আইনগত যুক্তি তুলে ধরছেন দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা।

ইতিমধ্যে ক্যাসিনোকাণ্ডের অন্যতম হোতা গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সহসভাপ?তি এনামুল হক এনু ও যুগ্ম-সম্পাদক রুপন ভুঁইয়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুটি মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে। এর আগে এনু ও রুপন জব্দকৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলন করে ট্যাক্স পরিশোধের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন। ফলে জব্দকৃত অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাননি আসামিরা।

দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান ইত্তেফাককে বলেন, দুর্নীতি বা ফৌজদারি মামলার যে কোনো আসামি নিম্ন আদালতের আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে তার উচ্চ আদালতে আসার আইনি সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ যদি তিনি গ্রহণ করেন তাতে আমি অন্যায় কিছু দেখছি না। তিনি বলেন, আসামিদের যে কোনো আবেদনের বিরুদ্ধে দুদক জোরালো আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অতীতেও কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি, ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে না। দুদকের এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে তথ্য গোপন করে হাইকোর্টের দুটি ডিভিশন বেঞ্চ থেকে অস্ত্র ও মাদক মামলায় জামিন নিয়েছিলেন ক্যাসিনোকাণ্ডের আরেক হোতা যুবলীগ নেতা ও প্রভাবশালী ঠিকাদার জি কে শামীম। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আসলে মার্চ মাসে ঐ জামিন বাতিল করে দেয় হাইকোর্ট।

এদিকে মাদক মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষি?ণের বহিষ্কৃত সহসভাপতি এনামুল হক আরমান। জামিন প্রশ্নে জারিকৃত রুল যথাযথ ঘোষণা করে এই রায় দেয় হাইকোর্ট। জামিন প্রসঙ্গে আরমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলহাজ আলাল উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, গত বছরের ৬ অক্টোবর যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের দেখানো মতে তার কাকরাইলের কার্যালয় থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ এবং ১ হাজার ১৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় করা মামলায় আরমানকে আসামি করা হয়। আমি শুনানিতে হাইকোর্টে বলেছি, সম্রাটের দেখানো মতে তার কার্যালয় থেকে মাদক উদ্ধার হয়েছে। আরমানের কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। আরমান তখন কুমিল্লা কারাগারে বন্দি ছিল। ফলে তাকে এ মামলায় আসামি করা আইনসংগত হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট সারোয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, সম্রাট পুলিশকে বলেছে আরমানের সহযোগিতায় সে এই মাদক সংগ্রহ করেছে। ফলে দুই জনই সমভাবে অপরাধী। আর এটা স্পর্শকাতর মামলা। জামিন দেওয়ার সুযোগ নেই। শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ জামিন মঞ্জুর করেছে।