আবারো নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:০০

দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় দক্ষিণ আফ্রিকার স্পোর্টস কনফেডারেশন এন্ড অলিম্পিক কমিটি (এসএসিওসি) সিএসএর গভর্নিং বডি ও প্রধান নির্বাহীসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রোটিয়া ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ এখন দেশটি অলিম্পিক কমিটির হাতে। 

ফলে ধারণা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ফের নিষিদ্ধ হতে পারে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ)। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ক্রিকেট বোর্ডের উপর কোনো সরকারী হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না। ফলে সাউথ আফ্রিকান সরকারের ক্রিকেট বোর্ডে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সিদ্ধান্ত প্রোটিয়া ক্রিকেটকে ফেলে দিয়েছে বিপাকে। সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবশ্য আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সিএসএ।

সিএসএর দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে একটি যৌথ কমিটি বা টাস্ক টিম গঠন করেছে এসএসিওসি। যে টিমের কাজ হবে সিএসএর অভ্যন্তরে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা। কমিটিকে একমাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

সিএসএর প্রধান নির্বাহী কুগান্দ্রি গোভেন্দর, সেক্রেটারি ওয়েলস গাওয়াজা এবং ভারপ্রাপ্ত কমার্শিয়াল কর্মকর্তা থামি মোথেমবুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে সিএসএ পরিচালনা করার মতো কোনো কর্মকর্তাই থাকছেন না বোর্ডটির দায়িত্বে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে বেশ অস্থিরতা চলছিল সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ডকে ঘিরে। বর্ণবিদ্বেষ, বেতন কাঠামো পরিবর্তন ও দুর্নীতির অভিযোগসহ বিস্তর সমালোচনা ছিল বোর্ড কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অপেশাদার আচরণের অভিযোগে প্রথমে বরখাস্ত করা হয় প্রধান নির্বাহী থাবাং মুরেকে। আগের দুই প্রধান নির্বাহী ক্রিস নানজানি ও জ্যাক ফাউলের পদত্যাগের পর থেকেই মূলত অস্থিরতার শুরু।

সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেটের বিষয়ে আইসিসি কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটির সংবিধান অনুযায়ী, যেকোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঠিক এ কারণে গত বছর নিষিদ্ধ করা হয়েছিল জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডকে।

যদি আইসিসি থেকে নিষিদ্ধ হয় ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা, তা হবে ক্রিকেট ইতিহাসে তাদের দ্বিতীয়বারের মতো নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা। এরআগে বর্ণবিদ্বেষের কারণে ১৯৭০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিল দেশটি।

ইত্তেফাক/এসআই