ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির নিয়োগ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সরকারি সব চাকরিতে সরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের মাধ্যমেই আবেদন ফি জমা দিতে হয়। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকে কয়েকটি পদে চাকরির জন্য ব্যাংকার সিলেকশন কমিটি টেলিটকের পরিবর্তে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল অপারেটর রকেটের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়। আর এ সুযোগের কারণেই এখন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী। কারণ, পরীক্ষার ফি বাবদ চাকরিপ্রার্থীরা টাকা জমা দিলেও এখন পেমেন্ট ডিউ দেখাচ্ছে। ফলে তারা প্রবেশপত্র পাচ্ছেন না।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার সিলেকশন কমিটি কয়েকটি ব্যাংকের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। যেখানে সিনিয়র অফিসার ৭৭১টি, অফিসার জেনারেল ২ হাজার ৪৬টি এবং অফিসার ক্যাশ ১ হাজার ৫১১টি পদের বিজ্ঞপ্তি দেয়। এসব পদের বিপরীতে আবেদন করে কয়েক লাখ চাকরিপ্রার্থী। সাধারণত, সরকারি চাকরিতে টেলিটকের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে থাকে আবেদনকারীরা। সেখানে নিজের মোবাইল নম্বর থেকে টাকা জমা দেওয়ার পর কনফারমেশন ম্যাসেজ আসলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে বলা হয়। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে চাকরির আবেদন করলে কোনো ধরনের ফি লাগত না। এই তিনটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে প্রথম ২০০ টাকা করে রকেটের মাধ্যমে ফি নেওয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। টাকা জমা সাকসেস হয়েছে বলে এসএমএস আসলেও তা কনফার্ম বা ভেরিফাই করার কোনো কথা ফিরতি এসএমএসে বলা হয়নি। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ফি জমা দেওয়ার পর তা আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নিজের আইডিতে যেয়ে ভেরিফাই করতে হবে। যে বিষয়টি অনেক চাকরিপ্রার্থী জানাতেন না বা বুঝতে পারেননি। এসব প্রার্থীর টাকা সিলেকশন কমিটির অ্যাকাউন্টে জমা হলেও তারা ঐ প্রার্থীদের অবহিত করা হয়নি। সম্প্রতি এসব চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হওয়ার পর প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে না পেরে চাকরিপ্রার্থীরা বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে জানায় যে, তাদের আবেদন অসম্পূর্ণ।
এদিকে এ বিষয়ে প্রবেশপত্র বঞ্চিত আবেদনকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিষয়টি উপস্থাপন করার পর দেখা যায় একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কয়েক হাজার আবেদনকারী। জানা গেছে, অনেক আবেদনকারীর চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে করোনার কারণে বেসরকারি ব্যাংকগুলোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেই বল্লেই চলে। এসব বিবেচনায় প্রবেশপত্র না পাওয়া আবেদনকারীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
