আধুনিকায়ন শেষে উদ্বোধন করলেন মেয়র
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত সাবেক বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কের চিত্র পালটে গেছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কাজ শেষে গতকাল শনিবার ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম পার্কটি উদ্বোধন করেন। ৯ একর আয়তনের পার্কটির উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। কাজ শেষ হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। প্রাকৃতিকভাবেই পার্কটি বেশ সমৃদ্ধ। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১ হাজার ৭০০ গাছ রয়েছে।
সব বয়সি মানুষের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে বয়োজ্যেষ্ঠ মহিলা-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এখানে। পার্কে পাঁচ ধরনের হাঁটার পথ রয়েছে। লাল ইটের হাঁটার পথ, কনক্রিট ব্লকের হাঁটার পথ, সবুজ ঘাস সমৃদ্ধ হাঁটার পথ, ডব্লিউ পি সি (উড প্লাস্টিক কম্পোজিট) প্ল্যাংকের পথ এবং ইলাসটো পেভের বাইসাইকেল লেন।
এছাড়া পার্ক ব্যবহারকারীদের জন্য টয়লেট, গোসলখানাসহ জিমনেসিয়াম, ওজুখানাসহ নামাজের স্থান, ক্যান্টিন ও ছয়টি বসার কিয়স্ক রয়েছে। পার্কটিতে বঙ্গবন্ধু কর্নারসহ একটি লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে।
তিনটি পুকুরঘাট সুবিন্যস্ত করার পাশাপাশি, জলাধারের চারপাশে তিনটি দর্শন ডেক সমৃদ্ধ একটি হাঁটার পথ নির্মাণ করা হয়েছে। জলাধারের উত্তর পশ্চিমের ঢালে নির্মিত একত্রে ৪০০ মানুষের বসার সুবিধা সম্বলিত ঘাসে ঢাকা সবুজ মুক্তমঞ্চ (এমপিথিয়েটার) নির্মাণ করা হয়েছে। মুক্তমঞ্চের সামনে জলাধারের ওপর নির্মিত পারফরম্যান্স ডেক এবং জলাধার থেকে বেরিয়ে আসা কৃত্রিম পানির ফোয়ারা স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া তরুণদের জন্য একটি আউটডোর বাস্কেটবল গ্রাউন্ড নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েছে একটি ব্যাডমিন্টন কোর্টও। ইনডোর ও আউটডোর ব্যায়ামাগার ছাড়া শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলার রাইডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পার্কটিকে সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সিসিটিভি কনট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। পুরো পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পার্কের ওয়াচ টাওয়ারও সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারবেন। রাতেও এ পার্ক ব্যবহারের সুবিধার্থে অত্যাধুনিক এবং বিদুত্বাতির ব্যবস্থা রয়েছে।
পার্ক উদ্বোধনের সময় ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, জনগণকে, স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে এই পার্কের ডিজাইন করা হয়েছে। এই পার্কে ইনডোর জিমনেশিয়াম আছে। আউটডোরেও জিমনেশিয়াম আছে। এই পার্কের ভেতরে একটি কফিশপও আছে। এই পার্কে এলে যে কারো মন ভালো হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, ‘বাকি ২৭টি পার্ক ও খেলার মাঠ দ্রুত উদ্বোধন করার জন্য আমি আমার টিমকে চাপ দিয়ে যাচ্ছি। দখল করে থাকা পার্ক, খেলার মাঠ উদ্ধারে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারণ পার্ক, খেলার মাঠ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি। কেউ এগুলো দখল করে রাখতে পারবে না। পাঁচটি পার্ক করতে গিয়ে দেখা গেল যে, দখলদাররা কনট্রাক্টরকে কাজ করতে দিচ্ছে না। আমি দখলদারদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা দ্রুত এসব ছেড়ে দিন। পার্কগুলোর ডিজাইন যখন করেছি, অর্থ বরাদ্দ যখন দিয়েছি, এইবার কিন্তু হবেই হবে।’
