লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার (রাজবাড়ী রোড) থেকে দলগ্রাম (খোকা চেয়ারম্যানের বাড়ি) পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০ মিটার দীর্ঘ ও ১৬ মিটার প্রশস্ত সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার কয়েকদিন পরই রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তাটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়। রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বিনিময় ট্রেডার্স’ টেন্ডারের মাধ্যমে এ সড়ক সংস্কারের কাজ পায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্থানীয় ঠিকাদার শাহ্জামাল সাব-কন্ট্রাক্ট হিসেবে কাজটি সম্পন্ন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাব-কন্ট্রাক্টর রাস্তা সংস্কারের কাজে নিম্নমানের খোয়া ও বিটুমিন ব্যবহার করেছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসান রাস্তার সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন। সংস্কার কাজে ব্যবহূত খোয়ার ‘থিকনেস’ কমসহ নানা অভিযোগের সত্যতা পান তিনি। পরে তিনি সংস্কার কাজ বন্ধ রেখে উপজেলা প্রকৌশলীকে সঠিকভাবে কাজ বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু এক সপ্তাহ না যেতেই আবারও নিম্নমানের সামগ্রী ও বিটুমিন দিয়ে ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করেন। এ ব্যাপারে এলাকার বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন জানান, ‘রাস্তার কাজের ব্যাপারে আমরা কিছু বললেই ঠিকাদারের লোকজন আমাদের ওপর উলটো রাগ দেখায়। যেনতেনভাবে নিম্নমানের খোয়া ও বিটুমিন দিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে। যে কারণে কার্পেটিং করতে না করতেই তা উঠে যাচ্ছে।’
ঠিকাদারের প্রতিনিধি মাসুদ রানা বলেন, বৃষ্টির সময় সড়কের কাজ করায় কিছু অংশের কার্পেটিং উঠে গেছে। আমরা এগুলো আবার ঠিক করে দেব। কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব মোহাম্মদ সামছুজ্জামান বলেন, তার অনুপস্থিতিতে সড়কটির ৩০ মিটার অংশের সংস্কার কাজ হয়েছে। বৃষ্টির কারণেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী খান জানান, সড়কটির যে সব স্থানে সংস্কার কাজে ত্রুটি দেখা দিয়েছে তা আমার ও উপজেলা প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে ঠিকাদারের মাধমে সিডিউল মোতাবেক ঠিক করিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
