বৈশ্বিক করোনার আতঙ্ক ক্রমশ ম্রিয়মাণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশে দেশে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে আকাশপথ। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হচ্ছে। চালু হচ্ছে একটির পর একটি নতুন রুট এবং নতুন গন্তব্য। ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে। মূলত করোনার ধাক্কা সামলিয়ে প্রসারিত হচ্ছে আকাশপথের দিগন্ত। প্রতিদিন এখন হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে শতাধিক ফ্লাইট ওঠানামা করছে। বর্তমানে দেশি-বিদেশি ১০টির বেশি এয়ারলাইনস বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেওয়ার পর যেসব এয়ারলাইনস সপ্তাহে দুটি বা তিনটি ফ্লাইট নিয়ে চলাচল শুরু করেছিল তাদের প্রত্যেকেই গত এক মাসে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। আজ রবিবার থেকে প্লেনের সিটগুলোতে যাত্রী বসায় আর কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না। পাশাপাশি সিটগুলোতে বসতে পারবেন যাত্রীরা। এক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী বসানোর যে বাধ্যবাধকতা ছিল সেই নিষেধাজ্ঞা আর মানতে হবে না।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বর্তমানে দোহা, দুবাই, লন্ডন ও কুয়ালালামপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আরো কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিমান তাদের আগের ১৭টি রুটে বিমান পরিচালনায় ফিরে যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিমান অভ্যন্তরীণ রুটেও ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়েছে। যাতায়াতকারীর চাহিদা বাড়ায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো বাংলাদেশের রুটে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়েছে। বর্তমানে এমিরেটস ঢাকায় সপ্তাহে সাতটি, তার্কিশ এয়ারলাইনস পাঁচটি, কাতার এয়ারওয়েজ পাঁচটি, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস দুটি, মালিন্দো এয়ার দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া ফ্লাই দুবাই, ইতিহাদ তাদের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়েছে। এয়ার এরাবিয়া ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকেও যাত্রী নিয়ে শারজাহর উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া নতুন করে ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে ওমানভিত্তিক ওমান এয়ার, সালাম এয়ার ও বাহরাইনভিত্তিক গালফ এয়ার। আরো কয়েকটি এয়ারলাইনস ফ্লাইট শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করেছে।
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান জানান, স্বাস্থ্যবিধি ও কোয়ারেন্টাইন সক্ষমতা বিবেচনা করে ক্রমান্বয়ে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে। আন্তর্জাতিক রুটে এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ফ্লাইটের চাহিদা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নীরবতা ভেঙে জীবনের প্রয়োজনে পৃথিবীর নানা গন্তব্যে ছুটছেন যাত্রীরা। এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিমানসহ অন্তত ১৫টি এয়ালাইনস কোম্পানিকে প্রায় ১৮টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশ বিমানই সপ্তাহে অন্তত ১২টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া এমিরেটস সাতটি, কাতার পাঁচটি, টার্কিশ এয়ার চারটি, এয়ার এরাবিয়া তিনটি, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস তিনটি এবং অন্য আরো পাঁচ-ছয়টি এয়ারলাইনস কোম্পানি সপ্তাহে দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে।
বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো বলছে, করোনার কারণে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আপাতত কম ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হলে ফ্লাইট সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। তার্কিশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশের সেলস অ্যান্ড ট্রাফিক অফিসার এজাজ কাদরী বলেন, টিকিটের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। চাহিদা বিবেচনায় ফ্লাইট সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।
এদিকে বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস চীন, কাতার ও মালয়েশিয়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন কক্সবাজারে তিনটি, চট্টগ্রামে পাঁচটি, সৈয়দপুরে পাঁচটি, যশোরে চারটি, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহীতে দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বেসরকারি আরেক এয়ারলাইনস নভোএয়ার প্রতিদিন চট্টগ্রামে চারটি, কক্সবাজারে তিনটি, যশোরে চারটি, সৈয়দপুরে চারটি, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহীতে দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযাগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনসহ নানা বিধিনিষেধের কারণে প্রত্যাশিতসংখ্যক যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। যাত্রী বাড়লে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিমান খাত ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে। তারা বলছেন, আগস্ট পর্যন্ত গড়ে ৮০ শতাংশ যাত্রী বেড়েছে বিভিন্ন রুটে। এ গতি অব্যাহত থাকলে শিগগিরই শত ভাগে পৌঁছাবে যাত্রী সংখ্যা।
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী করোনার সংক্রমণ বাড়লে গত মার্চ মাস থেকে দেশে দেশে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত ২৪ মার্চ বাংলাদেশেও প্লেন চলাচল বন্ধ করে দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ফলে বাংলাদেশও পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
