চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছাত্রলীগের নেতা লোহার পাত দিয়ে পিটিয়ে এক সেনাসদস্যকে গুরুতর আহত করেছেন। আহত সেনাসদস্যের নাম মো. ফোরকান উদ্দিন (২২)। তিনি উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড দয়ারপাড়া এলাকার হাফেজ আবদুল মজিদের ছেলে। যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ফোরকান সাতকানিয়ায় নিজ বাড়িতে ছুটি যাপন করছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় বোর্ড অফিস এলাকার দুলামিয়ার কুলিং কর্নারে। সেনাসদস্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের আরেক নেতাসহ আরো তিন জন আহত হন। গুরুতর আহত সেনাসদস্যের মাথায় ৯টি সেলাই দেওয়া হয়।
আহত সেনাসদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনাসদস্য বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি কুলিং কর্নারে বসে টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখছিলেন। এ সময় এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরা ঝগড়া-বিবাদ করছিল। জানা যায়, এলাকার দয়ারপাড়া ও তাঁতীপাড়ার ছেলেরা পিকনিকের আয়োজন করেছিল। পিকনিকের চাঁদা কম দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগিবতণ্ডা চলছিল। সেনাসদস্য ফোরকান তাদের ডেকে আগামীকাল দুই পক্ষকে বসে মিটমাট করার জন্য অনুরোধ করেন। বিষয়টি ছেলেরা ভালোভাবে না নিয়ে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি এস কে শামীমকে অবহিত করে। শামীম মোটরবাইকযোগে ৯-১০টি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কুলিং কর্নারে এসে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তুই এখানে কেন?—এ কথা বলে সেনাসদস্যকে লোহার পাত দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতা জাহেদুল ইসলাম, মুবিনুল ইসলাম ও মো. সজল আহত হন।
সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আইয়ুব জমাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এস কে শামীম খুবই উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। অভিযুক্ত শামীম বলেন, ‘আমি কাউকে মারধর করিনি। আমি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।’
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, একটা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফোরকান নামের এক সেনাসদসকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
