ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের জন্য মসজিদের ভিতরে জমে থাকা গ্যাস মূল কারণ বলে সিআইডির তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
গতকাল শনিবার সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। অন্যান্য তদন্ত সংস্থাও তাদের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। মসজিদে বিস্ফোরণের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুত্ বিভাগের গাফিলতিকে চিহ্নিত করেছে অধিকাংশ সংস্থা।
গতকাল সিআইডির ডিআইজি মো. মাঈনুল হাসানের নেতৃত্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মাঈনুল হাসান জানান, ফতুল্লা থানায় একটি মামলা হওয়ার পর মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং দক্ষতা দিয়ে দ্রুত মামলাটির তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তদন্তকালে যাদের দায় পাওয়া যাবে তাদের অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমাদের মনে হয়েছে গ্যাস থেকে এই ঘটনাটি ঘটতে পারে। এরপর তদন্ত অগ্রসর হলে মূল কারণ বুঝতে পারবো। এখানে বিদ্যুতের বিষয় আছে, গ্যাসের বিষয় আছে, এখানে যে মসজিদের স্থাপনাটি আছে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঘটনায় যতগুলো সামগ্রিক বিষয় আছে সবগুলো আমরা খতিয়ে দেখবো, যাতে করে সব বিষয়গুলো তদন্তে উঠে আসে। আমাদের চেষ্টা থাকবে দ্রুততার সঙ্গে সামগ্রিক যে সাক্ষ্য-প্রমাণ আছে এগুলো সংগ্রহ করে তদন্ত সম্পন্ন করা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টি এম মোশাররফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী প্রমুখ।
অপরদিকে এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে গতকাল নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি মানববন্ধন করেছে। তারা একজন বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে তিতাসের লাইনে কোনো লিকেজ থেকে বুদবুদ আওয়াজ শুনলেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রসঙ্গত গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালীন পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো হাসপাতালে পাঁচ জন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
