বিদেশি সরকার ও প্রতিষ্ঠানের ওপর দমনমূলক কূটনৈতিক নীতি প্রয়োগ করছে চীন

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:৫২

 বিদেশি সরকার ও প্রতিষ্ঠানের ওপর দমনমূলক কূটনৈতিক নীতি প্রয়োগ করছে চীনের ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউটের একটি প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট শি  জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি গত ১০ বছরে ১৫২টি দমনমূলক কূটনৈতিক নীতি প্রয়োগের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর ফলে ২৭টি দেশসহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

 প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, ভারত, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এখনো চীনের দমনমূলক কূটনৈতিক নীতির শিকার হচ্ছে।  প্রতিবেদনে চীনের দমনমূলক কূটনৈতিক নীতি প্রয়োগের কৌশলকে আটভাগে ভাগ করেছে।

এর মধ্যে প্রথমটি হলো আটক করা এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি দমনমূলক কূটনৈতিক নীতি প্রয়োগের জন্য বিদেশি নাগরিকদের নির্বিচারে আটক করে। এদের মধ্যে কারো কারো আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। 

চীনের দমনমূলক কূটনৈতিক নীতি প্রয়োগের দ্বিতীয় কৌশলটি হলো কর্মকর্তাদের ভ্রমণ সীমাবদ্ধ করে দেওয়া। এর ফলে বিদেশি কর্মকর্তারা চীনে প্রবেশ করতে পারেন না। আবার চীনের কর্মকর্তারাও বিদেশ সফরে যেতে পারেন না। ফলে বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে চীনের। 

চীনের তৃতীয় কৌশলটি হলো, বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ করে দেওয়া। দমন নীতি প্রয়োগের জন্য চীন প্রায়ই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে। এছাড়া চীনের সরাসরি বিনিয়োগ , অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ এবং যৌথ বিনিয়োগের খাতগুলোতেও সীমাবদ্ধতা তৈরি করে চীন। 
 
চীনের চতুর্থ কৌশলটি হলো বাণিজ্য সীমাবদ্ধতা তৈরি করে বিভিন্ন দেশের ওপর দমনমূলক কূটনৈতিক নীতি প্রয়োগ করা। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এ পর্যন্ত নিজেদের দমনমূলক নীতি প্রয়োগের কারনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানি এবং রফতানিতে সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। 

পঞ্চমত পর্যটন বিধিনিষেধ আরো করেও নিজেদের দমনমূলক কূটনৈতিক নীতি বিভিন্ন দেশের ওপর প্রয়োগ করে চীন। 

চীনের দমনমূলক কূটনৈতিক নীতির ষষ্ঠ কৌশলটি হলো দেশটি বিদেশিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সরাসরি আইনী বা নিয়ন্ত্রণমূলক হস্তক্ষেপ আরোপ না করে  জাতীয়তাবাদের নামে  ওই সব দেশের জনপ্রিয় পণ্য বয়কট করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচারণা চালায়। 
 
এছাড়া সপ্তম কৌশলে বলা হয়েছে যে চীন যে সব দেশের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে তাদের বিভিন্ন কোম্পানির ওপর চাপ প্রয়োগ করে। এখন পর্যন্ত অনেক বিদেশি কোম্পানি চীনের সরকারের এই নীতির শিকার হয়েছে। চীনের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার কথা বলে অনেক বিদেশি কোম্পানি হেনস্তা করেছে চীন সরকার। 

সর্বশেষ এবং অষ্টম কৌশলটি  হলো চীন নিজেদের দূতাবাস এবং সরকারি মন্ত্রণালয় ব্যবহার করে দমমূলক নীতি প্রয়োগ করে। চীনের এই দমনমূলক নীতির সবচেয়ে বেশি  শিকার হইয়েছে উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। এছাড়া আফ্রিকা দক্ষিণ আমেরিকা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার আরো কিছু দেশও চীনে এই দমনমূলক কূটনৈতিক নীতির শিকার হয়েছে , 

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার মধ্যে মেডিক্যাল পণ্য দিয়েও দমনমূলক কূটনৈতিক  নীতি প্রয়োগ করতে চেয়েছে চীন। মেডিক্যাল পণ্যের বাণিজ্যের মাধ্যমেও বিভিন্ন দেশের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে চীন সরকার।

ইত্তেফাক/এআর