নৌপুলিশ ফাঁড়ি ও ডুবুরি দল গঠনসহ তিন সুপারিশ

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৬

নেত্রকোনায় দুই ট্রলারডুবিতে মৃত্যু ৩০

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় সাম্প্রতিক সময়ে আলাদা ট্রলারডুবিতে ৩০ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর হাওরে দুর্ঘটনা রোধে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—হাওরাঞ্চলে চলাচলরত ১৬ অশ্বশক্তি ক্ষমতার অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন নৌযানসমূহকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন-ফিটনেস সনদ প্রদানসহ নজরদারির আওতায় আনা, জেলায় একটি স্থায়ী ডুবুরি দল গঠন এবং একটি স্থায়ী নৌপুলিশ ফাঁড়ি গঠন। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসন থেকে গৃহীত সুপারিশমালা সরকারের জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা বিভাগ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে।  স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, প্রতি বছর হাওরে ট্রলারডুবিতে লোকজন প্রাণ হারাচ্ছে কিন্তু প্রতিকার নেই। তাই এখন যে সমস্ত সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।  স্থানীয় ট্রলারচালক আব্দুস ছালাম বলেন, প্রশাসনের তদারকি থাকলে দুর্ঘটনা অনেক কম ঘটত। নেত্রকোনার শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সম্পাদক সানাওয়ার হোসেন ভুঁইয়া বলেন, সুপারিশগুলো ভালো, তবে এর দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী বলেন, হাওরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এরই মধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনা সদরের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, হাওরে যাতে ট্রলারডুবিতে আর কেউ প্রাণ না হারায়, সেজন্য জেলা প্রশাসন থেকে যে সমস্ত সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আমার পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।  উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট জেলার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের রাজালীকান্দা হাওরে ট্রলার ডুবে দুই শিশুসহ ১৮ জনের মৃত্যু হয়। আর ১০ সেপ্টেম্বর কলমাকান্দায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে আরো ১২ জন প্রাণ হরায় এবং সর্বশেষ আট জন নিখোঁজ থাকে। পর্যটন জেলা না হওয়া সত্ত্বেও হাওর এলাকার মদন, মোহনগঞ্জ এবং দুর্গাপুরে বর্ষাকালে বহু পর্যটক বেড়াতে আসে।