আল আমিন ইসলাম নাসিম
আমরা সমাজে নানা ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম করে থাকি। কেউ জ্ঞান দিয়ে সাহায্য করি কিংবা কেউ অর্থ, মুখের বুলি, নিজ উপস্থিতিতে সাহায্য করে থাকি। তবে যদি সাহায্য করার সময় অত্যন্ত বিনয়ী না হয় তবে সে উপকারের বস্তুত কোনো মানেই হয় না। ধরুন, আপনি কাউকে সাহায্য করছেন অর্থ দিয়ে এবং বারবার চাপ দিচ্ছেন তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিয়ে দিতে। অথচ আপনি জানেন, সে খুব জোরালোভাবেই আর্থিক সংকটে ভুগছে। তবে তার ওপর চাপ প্রয়োগ না করাই ভালো। সেখানে আপনার দানের কোনো মহত্ত্ব প্রকাশ পাবে না। পক্ষান্তরে আপনি যদি কাউকে আর্থিক সহায়তা করে তাকে আশাবাদী করেন যে, তুমি সময় নাও, তোমার সুবিধার্থে সময়মতো পরিশোধ কোরো। এই যে বিনয়ের সঙ্গে কথা বলছেন, এখানেই আপনার প্রকৃত পরোপকারের মহত্ত্ব। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে পুরো বিশ্ব আজ অসহায়। করোনা ভ্যাকসিন নিয়েও চলছে নানা কারসাজি ও রাজনীতি। একে অনেকে বাণিজ্যকরণের জন্য তৈরি করছে বা সেরকম বাজার গঠন করতে প্রস্তুত হচ্ছে। পাশাপাশি ভ্যাকসিন শুধু কি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেই চিন্তাভাবনা করলে চলবে? না, চলবে না। যে দেশের মানুষই ভ্যাকসিন আবিষ্কার করুক না কেন, তাদের উচিত হবে একে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা না করে প্রত্যেক দেশে এটি বিনা মূল্যে কিংবা স্বল্পমূল্য ছড়িয়ে দেওয়া, সাহায্যের হাত বাড়ানো, বিনয়ী হওয়া। মহামারির দিনে আমাদের দেশের নানা প্রান্তের মানুষ কর্মহীন। এসময় অনেক বেসরকারি এনজিওগুলো আর্থিক সহায়তা করছে উচ্চ সুদে কিংবা এলাকার সুদখোর ব্যবসায়ীরা মোটা সুদের বিনিময়ে অর্থসহায়তা দিচ্ছে এবং একটি সময় জোর করে সেগুলো মোটা অঙ্কের সুদের মতো হাসিল করছে। হতে পারে এটা ব্যবসাকেন্দ্রিক তবে তাই বলে জনসাধারণের এরকম হয়রানি করা উচিত নয়। অনেক সময় বিনয়ের সঙ্গে বললে কেউ কেউ অর্থগুলো ফেরতও দিয়ে দেয়। তবে নিহায়েত জোচ্চোর যে থাকে না, তা কিন্তু নয়। অপরপক্ষে মানুষের মুখ নিঃসৃত বুলিও কাজে লাগে। যেমন কথিত আছে, অর্থই সব কিছু করে না অনেক সময় মানুষের মুখের কথাই কাজ হাসিল হয়ে যায়। ঠিক তেমনি এই করোনাকালে আমাদের উচিত অন্তত বিনয়ী হওয়া। যারা যে প্ল্যাটফরমেই কাজ করি না কেন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবার উচিত বিনয়ের সঙ্গে কথা বলা, বিনয়ের সঙ্গে সাহায্য করা।
উন্নত বিশ্বের দ্রুত উন্নয়ের পেছনে আমরা যে রহস্যগুলো খুঁজে পায় (যেমন : জাপান, চীন ) তারা অন্তত কর্মঠ ও বিনয়ী। তারা বিনয়ের সঙ্গে অন্যান্য ক্যাটাগরির মানুষের আপ্যায়ন করে থাকে; যার ফলে তাদের দেশগুলোয় কোনো অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয় না। তারা অন্তত সাবলীলভাবে জীবনযাপন করে থাকে। সুতরাং তাদের অনুসরণ করলেই বোঝা যায় যে, আমাদের সমাজের যে বাস্তবিক দূরবস্থা, সেগুলো থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে অবশ্যই বিনয়ী মনোভাব বজায় রাখতে হবে। শুধু আর্থিক সহায়তা, জ্ঞান দান এই সেক্টরগুলোতেই নয় বরং আমাদের আচার-আচরণে, কথা বার্তায়, নৈমিত্তিক দিনে এই মনোভাব বজায় রেখে চলতে হবে। তবেই হয়তো আমাদের সমাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমস্যাগুলো থেকে বড় ধরনের সমস্যাগুলো থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
