ব্যবস্থার আশ্বাস ইউএনওর
দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
দোহার উপজেলার সরকারি জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান বরাদ্দে অর্থ লোপাট ও অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিগিগরই এর নিরসন চান বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠনগুলো। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধানকে দায়ী করছেন তারা।
একটি সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম খালেক ছিন্নমূল—দরিদ্র মানুষের দোহাই দিয়ে ও স্কুল তহবিলে ১ লাখ টাকা আসার কথা বলে কয়েক মাস আগে তড়িঘড়ি করে বিদায়ি ইউএনও ও স্কুলের সভাপতি আফরোজা আক্তার রিবাকে দিয়ে এক বছরের চুক্তিপত্রে একটি নীতিমালা তৈরি করে দোকান বরাদ্দের অনুমোদন করিয়ে নেন। দোকান বরাদ্দের আড়ালে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। চুক্তিপত্রের তথ্য অনুযায়ী ২০টি দোকান থেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা নেওয়ার কথা ছিল ।
দোকান বরাদ্দের বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ সরাসরি তদারকি না করে ব্যবসায়ী সমিতি দিয়ে পরিচালনার বিষয়টিকে প্রধান শিক্ষকের নয়া কৌশল বলে মনে করছেন অনেকে। ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাবলেটের মাধ্যমে অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নির্ধারিত টাকার চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা এককালীন ও মাসিক ১ হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করার মৌখিকভাবে অনুমতি দিলে ব্যবসায়ীরা নিজ খরচে দোকান ঘর তুলে ব্যবসা শুরু করেন। ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের কথা বলে দোকান বরাদ্দ হলেও ব্যবসায়ী সমিতির আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত লোকজনকে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা জানান, সবগুলো দোকান থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আতিকুর রহমান জানান, স্কুলের জমিতে দোকান বরাদ্দের নামে যে অনিয়ম হয়েছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দরিদ্রদের বরাদ্দ না দিয়ে তাদের ওপর অন্যায় করা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরু মোল্লা জানান, স্কুলের সঙ্গে এক বছরের চুক্তিতে ছিন্নমূল ব্যবসায়ীদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম খালেক ১ লাখ টাকা স্কুল তহবিলে রাখার বিষয়টি স্বীকার করলেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এফ এম ফিরোজ মাহমুদ জানান, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
