ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ ও মসৃণ :কাদের

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৮

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ, মসৃণ এবং ভবিষ্যত্মুখী। গতকাল রবিবার সকালে ভারতীয় ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প এবং তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কূটনৈতিক দক্ষতা দিয়ে বৈরিতার বিপরীতে গড়ে তুলেছে আস্থার সম্পর্ক যা পারস্পরিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এখন একে অপরের সহায়ক।

এসময় অনলইন প্ল্যাটফরমে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারত আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু। উভয় দেশের বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি হলে দুই দেশের মধ্যকার অনেক অমীমাংসিত সমস্যা সহজে সমাধান সম্ভব। তার প্রমাণ ছিটমহল বিনিময় সীমান্ত সমস্যাসহ অনেক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ।

মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পসমূহের কাজ শুরু হতে বেশি সময় লাগছে। সমীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করা, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সম্মতি, ইন্ডিয়ান এক্সিম ব্যাংকের কনকারেন্সসহ আমাদের অংশের কার্যক্রম সব মিলিয়ে প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। এলওসির আওতায় প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নিতে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ, প্রকল্পগুলো দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহে যে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে তা এগিয়ে নিতে হবে উন্নয়নের স্বার্থেই। দাপ্তরিক যোগাযোগসহ অন্যান্য যোগাযোগ দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন, আমি কথা বলব।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কর্মস্থল ছেড়ে ঢাকায় অবস্থানের সমালোচনা করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা অধিকাংশ ঢাকায় অফিস করেন। সেতু নির্মিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে, আর প্রকল্পের অফিস কেন ঢাকায়? এটিও প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্ব্বিত হওয়ার একটি কারণ। প্রকল্প এলাকায় অফিস থাকবে, ঢাকায় নয়।

এলওসি-৩ এর আওতায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আসছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ভাটিয়াপাড়া-ভাঙ্গা সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প অন্যতম। এ প্রকল্পের আওতায় ৩১টি সেতু, পাঁচটি ফ্লাইওভার, ১২টি ওভারপাস, দুটি রেলওভারপাস, ১১টি আন্ডারপাসসহ ১৫৭টি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ এ বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে। এলওসি ছাড়াও ভারতের অনুদানে বিবিরবাজার হতে সুয়াগাজী পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এবং সৌদি সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।