সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একটি আদালতে বিচার শুরু হয়েছে। ১৩ বছর আগে দুদক মামলাটি দায়ের করেছিল। চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেন গতকাল রবিবার মামলায় বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। এসময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলাটি করা হয়েছিল। ঐ সময় বদি টেকনাফ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। পরের বছর ২০০৮ সালের ২৪ জুন মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
চট্টগ্রামের এই মামলায় কক্সবাজারের আওয়ামী লীগ নেতা বদির বিরুদ্ধে ৫৬ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৭ টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বদির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও ২০১৭ সালে উচ্চ আদালত সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, নানা কারণে আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলার বিচার শুরু হতে বিলম্ব হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাক্ষ্যগ্রহণ ও পরে যুক্তিতর্ক শুনানি হয়ে এ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছি।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের টিকিটে টেকনাফ-৪ আসনের এমপি নির্বাচিত হন বদি। ইয়াবা পাচারের হোতা হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় তার নাম আসে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আবার এমপি হন বদি। ইয়াবা পাচারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তুমুল সমালোচনার মুখে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন। সেই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য তার স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী। ক্ষমতাসীন দলের এমপি থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালে দুদকের এক মামলায় ঢাকার একটি আদালতে বদির ৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। বদির ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৯৪২ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য তুলে ধরে ঢাকার ঐ মামলায় বলা হয়েছিল ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বদি।
