‘দেড় বছরের কাজ ৩২ মাসে হয়েছে ১৫ শতাংশ’

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৭

মোকামতলা-জয়পুরহাট মহাসড়ক সংস্কার

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণকাজ পৌনে তিন বছরেও শেষ না হওয়ায় সড়কটির ব্যবহারকারীরা এই দীর্ঘ সময় ধরে চরম দুর্ভোগে আছেন। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বলছে, নানাভাবে চেষ্টা করেও ঠিকাদার কাজ না করায় কার্যাদেশ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে তারা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৮ মাসে। ইতিমধ্যে ৩২ মাস পেরিয়ে গেছে। তবে কাজের মোট অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে এক দফা সময় বাড়িয়ে নিয়েছিল ঠিকাদারি কোম্পানি। সেই বর্ধিত সময়ও শেষ হয়ে গেছে আট মাস আগে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরাঞ্চলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ হাতে নেয় সওজ। এর মধ্যে রয়েছে মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩৭ কিলোমিটার অংশ ১৮ থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত করার কাজ। এ কাজের জন্য ২০১৭ সালে দরপত্র আহ্বান করে সওজ। এর মধ্যে বগুড়া অংশের ২৭ কিলোমিটারের কাজ পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু করে। কিন্তু খোঁড়াখুঁড়ি করে পুরোনো ইট, খোয়া ও কার্পেটিং তুলে রাখার পর বালু ফেলে চলে যায় ঠিকাদারের লোকজন। গত বছরের এপ্রিল মাসে কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ঐ বর্ধিত সময়ও শেষ হয়েছে আট মাস আগে। এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের আমতলী থেকে কালাই উপজেলার পুনট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা আমতলী বন্দর থেকে হরিপুর বাসস্ট্যান্ড, কিচক ব্রিজ, কিচক পেট্রোলপাম্প পর্যন্ত। এসব এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থান কাদা ও জলে একাকার। কোথাও কোথাও হয়ে গেছে বড় বড় গর্ত। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই মহাসড়কে বগুড়া, জয়পুরহাট জেলার পাশাপাশি নওগাঁর ধামইরহাট এবং দিনাজপুরের দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ পথের বাস-ট্রাকসহ নানা যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে পণ্যবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। সড়ক বেহাল হওয়ার কারণে চালকেরা যানবাহন চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। প্রায়ই ইঞ্জিন বিকল হচ্ছে। আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে এ দুর্ভোগ চললেও সওজ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কারো তেমন কোনো তত্পরতা নেই।

এ ব্যাপারে সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আগেও ঠিকাদারকে দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। সর্বশেষ গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়। তাতে ২৮ দিন সময় বেঁধে দিয়ে বলা হয়েছিল, এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে কার্যাদেশ বাতিল ছাড়াও জামানত বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা আদায়ের মতো পথে হাঁটবে সওজ। এর পরও সাড়া না পেয়ে ১৯ জুলাই মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ। এই কাজের জন্য ঠিকাদারি কোম্পানিকে কোন বিল দেয়া হয়নি।