ঝিনাইদহে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৮

শৈলকুপায় দুই মাসে ১১ জনের মৃত্যু

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলায় সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শৈলকুপা উপজেলায়। অন্য উপজেলাতেও সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সাপে কামড়ালে রোগীকে নিয়ে স্বজনরা ছুটছে ওঝার বাড়িতে। হাসপাতালে সাপে কামড়ানোর চিকিত্সার একমাত্র ওষুধ অ্যান্টি ভেনাম ইনজেকশন। কোনো কোনো রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ডাক্তাররা এ ইনজেকশন পুশ করার ঝুঁকি এড়িয়ে যান। রোগী মারা গেলে ঝামেলার ভয়ে। অন্যত্র রেফার্ড করে দেন।

গত দুই মাসে শৈলকুপা উপজেলায় অন্তত ১১ জন সাপের কামড়ে মারা গেছে। শনিবার রাতে মলমলি গ্রামের কলেজ ছাত্রী মিনাক্ষী রানীকে (১৭) ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে কামড় দেয়। দুধসর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সায়ুব জোয়ার্দ্দার জানান, তাকে গ্রামের ওঝার কাছে নিয়ে গেলে ঝাড়ফুঁক করে। রবিবার সকালে সে মারা যায়। শুক্রবার রাতে বাগুটিয়া গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে কামড়ে দেয় ইজাহিদ নামে ৮ বছরের এক শিশুকে। স্বজনরা নিয়ে যায় গ্রামের ওঝার কাছে। ঝাড়ফুঁক শুরু করে ওঝা। রোগীর অবস্থা আস্তে আস্তে খারাপ হতে থাকে। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটি মারা যায়। নাকপাড়া গ্রামের ফোরকান নামের এক শিশু বাবা-মার সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল। রাত ১০টার দিকে শিশুটিকে সাপে কামড় দেয়। হাকিমপুর ইউনিয়নের মেম্বর  মো. আব্দুল মতিন হান্নান জানান, শিশুটিকে প্রথমে গ্রামের ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ঝাড়ফুঁক চলে শনিবার দুপুর পর্যন্ত। দীর্ঘসময় অতিবাহিত হওয়ায় শিশুটির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। বিকালে আনা হয় শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ততক্ষণে রোগীর অবস্থা আরো সংকটজনক হয়ে পড়ে। কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে। হাসপাতালে ভর্তির পর অক্সিজেন দেওয়ার সময় শিশুটি মারা যায়। হরিহরা গ্রামের এক শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় সাগে কামড় দেয়। তাকে ঝাড়ফুঁক করা হয়। পরে মারা যায় শিশুটি। শুধু এ চারটি ঘটনা নয়। প্রতিটি সাপে কামড়ানো রোগীর এ ভাবে মৃত্যু হচ্ছে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কামড়ানোর ওষুধ অ্যান্টি ভেনাম আছে। কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি ভেনাম নেই। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন বলেন, সাপে কামড়ানোর পর রোগীর স্বজনরা ওঝার কাছে নিয়ে যায়। শেষ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। তখন আর করার কিছু থাকে না। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. অপূর্ব কুমার সাহা বলেন, সাপে কামড়ানো রোগী শেষ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। অ্যান্টি ভেনাম ইনজেশন দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। অভিজ্ঞ ডাক্তারকে দিয়ে পরীক্ষার পর পুশ করা হয়। রোগী মারা গেলে স্বজনরা ঝামেলা করে থাকে। ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ  কুমার অধিকারী বলেন, বর্ষকালে সাপের উপদ্রব বাড়ে। সাপ ঘরে আশ্রয় নেয়। সাপে কামড়ালে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে অ্যান্টি ভেনাম ইনজেকশন দেওয়ার বিকল্প চিকিত্সা নেই। সাপের কামড়ে মৃত্যু এড়াতে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।