ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ ১০ হাজার ভারতীয়র ওপর চীনের নজরদারি

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৪

ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ১০ হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে চীন। তালিকায় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী, শীর্ষ রাজনীতিক, প্রধান বিচারপতি, এমপি, সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়সহ অনেকেই আছেন। লাদাখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার মাঝেই এ খবর জানা গেল। ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাত দিয়ে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, রাজনীতি থেকে বিনোদন, ক্রীড়া থেকে মিডিয়া এমনকি অপরাধী ও জঙ্গিদের সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের গুয়াংডং প্রদেশের শেনঝেন শহরের শেনহুয়া ডেটা ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড নামের সংস্থা। তাদের অন্যতম গ্রাহক প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকার, পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নজরদারির তালিকায় রয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তার পরিবারের সদস্যরা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংসহ শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রাজনাথ সিং, নির্মলা সীতারামন, স্মৃতি ইরানি, পীযুষ গয়ালের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও নজরদারির আওতায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ আরো কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে, রতন টাটা, গৌতম আদানির মতো শিল্পপতি এবং বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলের সম্পাদক রয়েছেন। আছেন ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকারসহ আরো অনেকে।

এই ব্যক্তিদের কাজকর্ম, তাদের গতিবিধিসহ যাবতীয় তথ্য প্রতিনিয়ত সংগ্রহ করছে শেনহুয়ার ঐ সংস্থা। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, গত প্রায় দুই মাস ধরে সংস্থার ‘মেটা ডেটা’ ও ‘লগ ফাইল’ ঘেঁটে তথ্য বের করেছে তারা। শুধু ভারত নয়, যুুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বহু দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যও সংগ্রহ করে শেনহুয়া।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থার ২০টি প্রসেসিং সেন্টার রয়েছে বিভিন্ন দেশে। গত পহেলা সেপ্টেম্বর সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া ই-মেইলে এ সংক্রান্ত প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। কিন্তু কোনো জবাব আসেনি। তবে নয়াদিল্লিতে চীনা রাষ্ট্রদূতের অফিসের একটি সূত্র বলেছে, স্থানীয় আইন ভেঙে চীনের বাইরের তথ্য চীনের সরকার কখনো কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির কাছ থেকে নেয় না। তবে শেনহুয়ার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া সম্পর্কিত সরাসরি প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছে ঐ সূত্র।