শিশু নোহাকে বালিশ চাপায় হত্যা করা হয়েছে?

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৫

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুশরাত জাহান নোহার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আদালতে হত্যা মামলার এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে নোহার গর্ভধারিণী মা তানিয়া বেগম তিন জনকে আসামি করে এজাহার জমা দিলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক শাম্মী আক্তার একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করতে এবং তার আগ পর্যন্ত নথির কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেন।

এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা হচ্ছে— নিহতের বাবা ও বাদীর সাবেক স্বামী সুমন মিয়া (৩৫), সুমনের চতুর্থ স্ত্রী ঝুমুর জামান (২৬) ও সুমনের বোন লিপি বেগম (৩৮)। বাদী তানিয়া বেগম তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট সুমন মিয়া তাকে তালাক দেন। তালাকের পর নোহা তার বাবার কাছে থাকত। নোহাকে সুমনের বাবা আব্দুর রহিম মিয়া খুব আদর করতেন; কিন্তু তা সহ্য করতে পারতেন না সুমন ও তার স্ত্রী ঝুমুর। এজাহারে আরো বলা হয়, ৯ বছরের একটি শিশু আত্মহত্যার চিন্তাও করতে পারে না। সেখানে গামছা ও ওড়না গিঁট দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাস দেওয়া তার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি উল্লেখিত তিন জনকে আসামি করে হত্যা মামলার এজাহার জমা দিয়েছেন বলে জানান।

বাদী এজাহারে আরো অভিযোগ করেন যে, নোহার দাদা আব্দুর রহিম নোহাকে অত্যন্ত স্নেহ করলেও আসামিরা নোহার প্রতি আক্রোশ পোষণ করতেন। ঘটনার দিন পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নোহাকে শিক্ষকের গালমন্দ ও বেত্রাঘাতের ঘটনাকে পুঁজি করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামিরা তার মেয়ে নোহাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এরপর তারা গামছায় ওড়না যুক্ত করে নোহাকে ঘরের দোতলার আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার অপপ্রচার চালায়।

তানিয়া বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগে বলেন, নোহাকে তার দাদা আব্দুর রহিম নোহার ভবিষ্যত্ চিন্তা করে তার নামের সম্পত্তি থেকে কিছু সম্পত্তি লিখে দেওয়ার কথা তাকে জানিয়েছিলেন। এটাই নোহার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।