বরখাস্ত চেয়ারম্যান-শ্রমিক লীগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের জের

পাকুন্দিয়া থানায় মামলা দায়ের

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৯

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের  যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বরখাস্তকৃত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনুর সমর্থক ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া ও পালটা ধাওয়া এবং কয়েক জন আহত হওয়ার ঘটনায় গতকাল সোমবার পাকুন্দিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলার সময় আহত ইউএনও অফিসের কর্মচারী হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। পাকুন্দিয়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

জানা যায়, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ২৮ মে পৌর মেয়র, দুই ভাইস চেয়ারম্যান ও ৯টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা অনাস্থা প্রস্তাব এনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠান। তাছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে রফিকুল ইসলাম রেনুকে বরখাস্ত করে পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। কিন্তু রেনু এই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতার স্থগিতাদেশ চেয়ে উচ্চ আদলতে রিট পিটিশন করলে রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের আদেশ স্থগিত করা হয়। রায়ের কপি নিয়ে রবিবার মো. রফিকুল ইসলাম রেনু পাঁচ শতাধিক দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে অফিসে যোগদানের জন্য মিছিলসহ উপজেলা পরিষদের দিকে অগ্রসর হলে পূর্ব থেকে উপজেলা গেটের কাছে অবস্থানরত জাতীয় শ্রমিক লীগের কর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া ও পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী মো. হাবিবুর রহমানসহ কয়েক জন আহত হন। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ ও কিশোরগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 এ ব্যাপারে মো. রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগে আমাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। তার পরও আমাকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।’

জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আতাউল্লাহ সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনের। এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। অথচ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মিছিলে এমপির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। তাই শ্রমিক লীগের কিছু কর্মী ও উত্তেজিত জনতা তাদের বাধা দেয়।