ঢাকায় ৯ বছর আগে প্রকাশ্য দিবালোকে ডাকাতির ঘটনায় এক পুলিশ ও চার সৈনিককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এর বিচারক মো. শহিদুল ইসলাম গতকাল সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— শাহবাগ পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সাবেক এসআই মোসাদ্দেক হোসেন খান, সেনাবাহিনীর ল্যান্স করপোরাল মনিরুল ইসলাম, সৈনিক সাজ্জাদ হোসেন, লুত্ফর রহমান খান ও লিটন হাওলাদার। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সৈনিক লিটন হাওলাদার ও মোসাদ্দেক হোসেন খানকে রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। আর পলাতক বাকি তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মামলার আসামিরা ঘটনার সময় র্যাবে কর্মরত ছিলেন। পরে তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার আসামি আলম খান ও সমুয়েল বৈদ্যকে খালাস দেয় আদালত।
মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জেকে সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ম্যানেজার মাঈন উদ্দিন, অ্যাকাউন্টেন্ট সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার হানিফ, চালক নুরুল হককে সঙ্গে নিয়ে সাউথ ইস্ট ব্যাংকের বনানী শাখায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা দিতে রওনা দেন। অফিস থেকে একটু দূরে ১৩ নম্বর রোডের মাথায় পৌঁছালে র?্যাবের পোশাক পরিহিত একটা মোটরসাইকেল তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। অবৈধ মাল আছে দাবি করে চেক করার কথা বলে গাড়ির পেছনের বক্স খুলতে বলে। ড্রাইভার পেছনের বক্স খুলে দেন। এ সময় ঐ গাড়ির পেছনে র্যাবের পোশাক পরা চার-পাঁচ জন আরেকটি গাড়িতে ছিলেন। দরজা খোলার পর টাকার ব্যাগসহ অ্যাকাউন্টেন্ট মো. সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার হানিফকে র্যাবের গাড়িতে তুলে নেয়। তবে তারা র্যাব কার্যালয়ে না গিয়ে মাটিকাটার ওখানে গিয়ে সেলিম ও হানিফকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার পর আসামিদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ও মাইক্রোবাসটি জব্দ করে পুলিশ। ঐ বছরের ৩০ মে সাত জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
