অর্থনীতি
শেখ আবু সাঈদ আবদুল্লাহ
প্রভাষক
কুমিল্লা অজিতগুহ মহাবিদ্যালয়,কুমিল্লা
শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজ তোমাদের অর্থনীতি (প্রথম পত্র) দ্বিতীয় অধ্যায়ের চাহিদা নিয়ে আলোচনা করা হলো। সহজ এবং প্রাঞ্জল ভাষায় বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ আলোচনার উপর ভিত্তি করে সৃজনশীল এবং বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (উত্তরসহ) দেওয়া হবে। মনোযোগ দিয়ে পড়লে সৃজনশীল এবং বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হবে।
চাহিদা
সাধারণত: কোন কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে চাহিদা বলে। তবে অর্থনীতিতে চাহিদা বলতে কার্যকর চাহিদাকে বুঝায়। আর কার্যকর চাহিদা মূলত: তিনটি বিশেষ উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। যথা-
কোনো দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য (ক্রয়ক্ষমতা) এবং
দ্রব্যটির জন্য অর্থ ব্যয় করার ইচ্ছা
উপরোক্ত তিনটি কার্যকর উপাদানের কোনো একটি উপাদান অনুপস্থিত থাকলে অর্থনীতিতে তা চাহিদা বলে গণ্য হবে না। সুতরাং, একটি নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্দিষ্ট দামে ক্রেতা একটি দ্রব্যের যে পরিমাণ ক্রয় করতে প্রস্তুত থাকে, তাকে চাহিদা বলে।
চাহিদার বৈশিষ্ট্য
কার্যকর চাহিদার তিনটি বিশেষ উপাদানকেই চাহিদার বৈশিষ্ট্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাত্ - দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য (ক্রয় ক্ষমতা) এবং
অর্থ ব্যয় করার ইচ্ছা
(ক) দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা: প্রয়োজন অনুভূত হওয়ার ধারণাকেই আকাঙ্ক্ষা বলা হয়। প্রয়োজন থেকেই অভাব তথা আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়। চাহিদা হতে হলে প্রয়োজন অনুভব করতে হবে, আর সেই প্রয়োজন থেকেই সৃষ্টি হবে আকাঙ্ক্ষা। সুতরাং দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা চাহিদার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
(খ) অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য:
কোনো দ্রব্যের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে মূলত: অর্থের প্রয়োজন। অর্থাত্ অভাব পূরণের প্রয়োজনীয় অর্থ বা ক্রয়ক্ষমতা না থাকলে সেই অভাব পূরণ করা সম্ভব নয়। যার ফলে আকাঙ্ক্ষা তথা অভাব পূরণের সামর্থ্য নেই এরূপ আকাঙ্ক্ষা অর্থনীতিতে চাহিদা বলে বিবেচিত হবে না। কোনো দ্রব্যের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য কিংবা ক্রয়ক্ষমতা থাকা বাঞ্ছনীয়।
