মানিকগঞ্জে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪৬

শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

জেলার দৌলতপুর উপজেলায় সদ্য সমাপ্ত ছয় মাসব্যাপী মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পে পাঠদানকারী বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পিপল্স অ্যাডভান্সমেন্ট সোশ্যাল অ্যাসোসিয়েশন (পাসা)-এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বঞ্চিত-ঝরে পড়া বয়স্ক ও শিশু জনগোষ্ঠীকে সুশিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করে জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া এ প্রকল্পটি ভেস্তে গেছে বলে অভিযোগ অংশীজনের।

জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রতি উপজেলায় সরকারিভাবে ৩০০ কেন্দ্র স্থাপন করার কথা। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, দৌলতপুরে কাগজ-কলমে ৩০০ কেন্দ্র ও ৬০০ শিক্ষক নিয়োগের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নামকাওয়াস্তে কেন্দ্র স্থাপন করা হলেও মেলেনি শিক্ষক । আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার বদলে কেন্দ্র ও শিক্ষকের নামে ভুয়া বিলভাউচার বানিয়ে অর্থ আত্মসাত্ করা হয়েছে। যেসব কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল তারও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। পাঠদানে উপযোগী ন্যূনতম অবকাঠামোর অংশ হিসেবে দেওয়ার কথা বিনা মূল্যে খাতা-কলম। এর পাশাপাশি থাকার কথা শিক্ষার্থীদের বসার জন্য চটের বিছানা, বই-খাতা-কলম রাখার ব্যাগ ও বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে হ্যারিকেন। অধিকাংশ কেন্দ্রেই তা ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। উলটো সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, সহায়ক শিক্ষকদের বেতনদানে অনিয়ম ও দুর্ব্যবহার।

সংস্থাটির দৌলতপুরের একাধিক কেন্দ্রের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, প্রকল্প শেষ হলেও কারো কারো তিন থেকে ছয় মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার ও পাসার নির্বাহী ফরিদ খানের কাছে বেতন চাইলে তিনি নানা তালবাহানা করেন। এমনকি কোনো কোনো সময় নিজে এবং তার সহায়ক লোকদের দিয়ে শিক্ষকদের অপদস্ত করান। বিষয়টি নিয়ে উচ্চবাচ্য না করার জন্যও শাসান তারা। তাই অনেকেই এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চান না। তবে এমন পরিস্থিতিতেও সম্প্রতি একাধিক ভুক্তভোগী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তিন মাসের বেতন, ঘরভাড়া, জ্বালানি ও আপ্যায়ন বিল বাবদ পাওনার কোনোটাই পাননি তারা। এরই মধ্যে বেতন দেওয়ার কথা বলে একজনের কাছ থেকে শিটে স্বাক্ষর নিয়েও বেতন দেয়নি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে উলটো ধমক দেওয়া হয়। অপদস্ত করা হয় নিজস্ব লোক দিয়ে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনও রহস্যজনকভাবে নীরব। এ বিষয়ে জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র কর্মকার বলেন, অনিয়মের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তার ভাষ্য, বেতনের বিষয় উপজেলা প্রশাসন দেখে। তবে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সংস্থাটির পরিচালক ফরিদ খান বলেন, কাজ করতে গেলে ভুলত্রুটি হতেই পারে। শিক্ষকদের বেতন সম্পূর্ণ তারা এখনো পাননি। সেজন্য দিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে কেন্দ্র চলাকালীন কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি। মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পটি শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই অভিযোগ করা হয়েছে।