সিসার বিষক্রিয়ায় শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে প্রতি তিনজনে একজন অর্থাত্ প্রায় ৮০ কোটি শিশুর রক্তে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যার অর্ধেকের বসবাস দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা পাঁচ ডেসিলিটারের বেশি। সিসায় ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। সম্প্রতি ইউনিসেফ ও পিওর আর্থ কর্তৃক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এদেশের মানুষের প্রত্যেকের রক্তে সিসার উপস্থিতির গড় হার ৬.৮৩ মাইক্রোগ্রাম, যা সর্বোচ্চ হারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের ১১তম। সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের স্বাস্থ্য ও পরিপূর্ণ বিকাশে মারাত্মক ক্ষতি করে। যার ফলস্বরূপ সারা জীবনের জন্য শিশুদের স্নায়ুবিক, মানবিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ডেকে আনে। সিসা দূষণের কারণে রক্তের স্বাভাবিক উত্পাদন ব্যাহত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা ছাড়াও প্রাপ্তবয়স্কদের হূদরোগ, স্মৃতিভ্রম, মাথাব্যথা, বিষণ্নতা, হরমোনজনিত রোগ, ক্যান্সার, কিডনি ও ফুসফুসের নানা রোগ সৃষ্টি হতে পারে। সিসাজনিত দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৯ শতাংশের সমান। তাই সিসার বিষক্রিয়া থেকে শিশু ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে কলকারখানায় শিশুশ্রম বন্ধ, সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারিগুলো অনানুষ্ঠানিক ও নিম্নমানের পূর্ণ ব্যবহার, খাবার ও মসলার রং এবং ওজন বৃদ্ধির জন্য সিসার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণসহ সিসার ক্ষতিকর দিক বিষয়ে গণসচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
মো.সাইমুন, শিক্ষার্থী, সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম
