আগৈলঝাড়ার আলোচিত শিশু শিক্ষার্থী নোহাকে হত্যা করা হয়েছে—এমনটা দাবি করে হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। এদিকে নুসরাত জাহান নোহাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে নোহার বাবা, সত্-মা ও ফুপুকে আসামি করে বরিশাল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন নোহার গর্ভধারিণী মা।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের বাগধা-পূর্ব সাতলা আঞ্চলিক সড়কের খাজুরিয়া ঈদগাহ মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সহস্রাধিক লোক বিভিন্ন দাবিসম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করে।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বজলুল হক মন্টু, সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম মওলা, আলমগীর মিয়া, স্থানীয় সত্তার মিয়া, হাবিবুর রহমান, ছলেমান মিয়া, শামীম মিয়া, হারুন খন্দকার, আব্দুল লতিফ মিয়াসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে শিশু শিক্ষার্থী নোহার দাদা আব্দুল রহিম মিয়া, বাবা সুমন মিয়া, সত্-মা ঝুমুর জামান ও ফুপু লিপি বেগমসহ পরিবারের লোকজন, নিহত নোহার সহপাঠীসহ স্থানীয় দুটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিল।
এদিকে, সোমবার নিহত শিশু নুসরাত জাহান নোহার গর্ভধারিণী মা তানিয়া বেগম নোহাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে তার সাবেক স্বামী সুমন মিয়া (৩৫), সুমনের চতুর্থ স্ত্রী ঝুমুর জামান (২৬) ও সুমনের বোন লিপি বেগমকে আসামি করে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। বিচারক শাম্মী আক্তার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা এবং ঐ পর্যন্ত নথির কার্যক্রম স্থগিত রাখারও নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর খাজুরিয়া দারুল ফালাহ প্রি-ক্যাডেট একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান নোহার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ ওঠে, স্কুলের একটি পরীক্ষায় নোহা অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষক মারধর ও গালমন্দ করায় নোহা অভিমান করে আত্মহত্যা করে। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর নোহার বাবা সুমন মিয়া বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। নোহার আত্মহত্যা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়— তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী কীভাবে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না ও গামছা বেঁধে আত্মহত্যা করে! এদিকে, নোহার বাবার মামলার পর থেকে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পলাতক রয়েছে।
