মো. সাইফুল ইসলাম
ফুটবল ব্রাজিলকে নিয়ে গেছে অন্য একটি উচ্চতায়। বলা হয়ে থাকে—ফুটবল আবিষ্কার করেছে ইংল্যান্ড আর পরিপূর্ণতা দিয়েছে ব্রাজিল।
ব্রাজিল ফুটবল দল পরিচালনা করেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল করপোরেশন বা সিবিএফ। ১৯২৩ সালে ব্রাজিল ফিফার সদস্য হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলকে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। অধিকাংশ সময় ব্রাজিল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম অবস্থানে থাকলেও বর্তমানে তাদের অবস্থান দ্বিতীয়। ফিফার ইতিহাসে ব্রাজিল এ পর্যন্ত পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে—১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭৪, ১৯৯৪ ও ২০০২। বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। এখন পর্যন্ত ব্রাজিলই একমাত্র দল, যারা বিশ্বকাপের সবগুলো আসরেই অংশগ্রহণ করেছে। আর তাই গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও ব্রাজিলের। দলটি ৭০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ জয় করেছে। কোনো পরাজয় ছাড়া টানা ১৩টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড আছে। এছাড়া সবচেয়ে বেশি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলা দলও ব্রাজিল। তারা বিশ্বকাপে মোট ১৬টি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলেছে। তবে এক পর্বে ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ হয়ে যাওয়ারও রেকর্ডও আছে তাদের—১৯৬২ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৯৬৬ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ হয়ে গিয়েছিল।
টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অন্তত ১টি করে গোল করার রেকর্ড ব্রাজিলের। তারা গোল বঞ্চিত হয়নি টানা ১৮টি বিশ্বকাপ ম্যাচ। বিশ্বকাপ ফুটবলে টানা গোল করেন ব্রাজিলের খেলোয়ার রোনাল্ডো। তিনি টানা ১১ ম্যাচে গোল করে রেকর্ড করেছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জোড়া গোল করার রেকর্ডও রোনাল্ডোর। তিনি ৪টি ম্যাচে জোড়া গোল করেন।
তিনটি বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মাত্র তিনজন খেলোয়ারের—তাঁরা হলেন পেলে, কাফু ও রোনাল্ডো। এদের মধ্যে পেলের রেকর্ডই সেরা। তিনিই তিনটি বিশ্বকাপ জয়ী খেলোয়ার। এছাড়া বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ট খেলোয়ার ও সবচেয়ে কম বয়সী হেট্রিক করা খেলোয়ারও পেলে। ফ্রান্সের সঙ্গে ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর ৮ মাস বয়সে এ রেকর্ডটি করেন। ১৯৬৯ সালে নাইজেরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলাকালে নিজের ক্লাব ‘সান্তোশ’-এর সঙ্গে নাইজেরিয়া যান পেলে। শুধুমাত্র পেলেকে দেখার জন্য নাইজেরিয়ায় গৃহযুদ্ধে লিপ্ত দলগুলো ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দেয়।
বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি গোল ব্রাজিলের। ১৯৫৮ সালে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৫টি গোল করেছিল তারা। খেলোয়ার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ তিনটি করে গোল করেছেন ব্রাজিলের পেলে ও ভাভা। খেলোয়ার এবং কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ফাইনালে অংশগ্রহণ ও শিরোপা জয়ী খেলোয়ারও ব্রাজিলের মারিও জাগালোর। ব্রাজিলের এই খেলোয়ার ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০ সালে খেলোয়ার হিসেবে এবং ১৯৭৪ ও ১৯৯৮ সালে কোচ হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
অতীতে কোনো দল পরপর তিনবার বিশ্বকাপ জিতলে তাদেরকে বিশ্বকাপটি স্থায়ীভাবে দিয়ে দেওয়া হতো। সে অনুযায়ী বিশ্বকাপ ট্রফিটি ব্রাজিলকে দিয়ে দেওয়া হয়। ব্রাজিল ফুডবল ফেডারেশন থেকে সে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। বর্তমান ব্রাজিল ফেডারেশনে যে জুলে রিমে ট্রফিটি রয়েছে, সেটি মূলত সোনার প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা একটি নকল ট্রফি।
