প্রয়োজনে পেঁয়াজের মৌসুমে আমদানিতে শুল্ক আরোপের পরামর্শ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ভারত হঠাত্ করেই বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানামুখী উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; কিন্তু কিছু যুক্তি তুলে ধরে পেঁয়াজের শুল্ক প্রত্যাহারে গত সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নিজেদের অপারগতার কথা জানিয়ে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ইস্যুটি নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এনবিআরের জবাবের পাল্টা যুক্তি দিয়ে ফের গত মঙ্গলবার এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমকে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এনবিআরের পাঠানো ঐ চিঠির কপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ অন্যদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
গত বছর একই সময়ে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পর নানা আলোচনার মধ্যে স্থানীয় পেঁয়াজ উত্পাদনকারীদের উত্সাহিত করতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসে। তাদের একটি নির্দিষ্ট মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আরোপের দাবিও ওঠে। এরপর গত বাজেটে এনবিআর পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এনবিআরের শুল্ক বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, এই শুল্ক দাম বাড়ার জন্য বাস্তবে দায়ী নয়। এর আগেও এ বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিলাম।
তবে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফা এনবিআরে পাঠানো চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সময় পেঁয়াজ উত্পাদন মৌসুম নয়। ফলে শুল্ক বহাল রাখার মাধ্যেমে চাষিদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে মর্মে প্রতীয়মান হয় না। পেঁয়াজের মোট চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়ে থাকে যার বেশির ভাগই ভারতের; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে এক দিকে যেমন ব্যবসায়ীরা বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার ক্ষেত্রে উত্সাহিত হবেন, তেমনি পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান সময়ের স্থলে পেঁয়াজের মৌসুমে শুল্ক আরোপ করা যুক্তিযুক্ত হবে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা যা যৌক্তিক মনে করেছি, তা-ই মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। এখন সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কোনো নির্দেশনা এলে তার ভিত্তিতে আমরা পদক্ষেপ নেব।
